আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের মানুষ
পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও এখনো পুরোপুরি কাটেনি বন্যার শঙ্কা। ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ঢল চলমান রয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলগুলোর অনেক এলাকা প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলেও মঙ্গলবার (২৩ জুন) পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা ও পিয়াইন নদীর পানির স্তর বর্তমানে স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে আসায় পানির চাপও কমেছে। তবে আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী তিন থেকে চার দিন পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৩৪ মিটার। সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ মিটার। কুশিয়ারা নদীর অমলসিদ পয়েন্টে দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ১৪ মিটার এবং শেওলা পয়েন্টে ১১ দশমিক শূন্য শূন্য মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা অপরিবর্তিত থাকলেও শেরপুর পয়েন্টে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ৭ দশমিক ৪৩ মিটারে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির স্তর ছিল ৯ দশমিক ০৫ মিটার এবং পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে ৯ দশমিক ৯৪ মিটার। কয়েকটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক থাকলেও বড় ধরনের বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব হয়ে নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে যাচ্ছে। ফলে কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবন দেখা দিলেও পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে আসায় সুরমা, কুশিয়ারা ও পিয়াইনসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি থেমেছে। তবে আগামী তিন থেকে চার দিন পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পানি আবারও বাড়তে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বন্যা নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী বা বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিম্নাঞ্চলের দিকে চলে যাওয়ায় কোথাও সাময়িক প্লাবন হলেও পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তবে কয়েকটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
রোদ্দুর রিফাত/ সজল আহমদ
মন্তব্য করুন: