৩য় দিনেও ক্লাস বর্জন
দাবি আদায়ে অনড় সুনামগঞ্জ মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা
হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, যথাযথ একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে তীব্র ছাত্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কলেজের প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক আশ্বাসেও আশ্বস্ত হতে না পেরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে এক স্থবির পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টা থেকেই শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান একাডেমিক ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর ভবনের সামনেই অবস্থান নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ, রাফাত রেজা আকাশ ও সুরাইয়া আক্তার স্মৃতিসহ একাধিক ছাত্রপ্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু না হওয়ায় আমরা তীব্র সেশনজট ও ব্যবহারিক শিক্ষার ঘাটতিতে ভুগছি। পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস না হওয়ায় ডাক্তার হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।
এর আগে, গত রবিবার (২১ জুন) থেকে সব ধরনের ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
আজ আন্দোলন চলাকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেডিকেল কলেজের একদল জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে টানা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উন্মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ার এবং ক্লাসে ফেরার বারংবার অনুরোধ জানান। তবে শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্ট ও লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া তালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজেদের কর্মসূচিতে অনড় থাকেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে উদ্ভূত সংকট নিরসনে সরাসরি যুক্ত হন ঢাকা থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি)। মুঠোফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সাথে প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তার কথা হয়। এডিজি শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দেন এবং জনস্বার্থে আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই মৌখিক আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারেননি। তারা জানান, অতীতেও এমন অনেক আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজকে বাঁচাতে এবং নিজেদের শিক্ষাজীবন সুরক্ষার এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে আগামীকাল বুধবার (২৪ জুন) সুনামগঞ্জের সচেতন নাগরিকসমাজ, অভিভাবক ও পেশাজীবীদের সাথে একটি মতবিনিময় সভার ডাক দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মেডিকেল কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের আবদার ও দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। প্রশাসন ওপর মহলে সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করেছে এবং দ্রুতই একটি সুনির্দিষ্ট সমাধানের চেষ্টা চলছে।
প্রীতম দাস/ রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: