বালাগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে
প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতার টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ
সিলেটের বালাগঞ্জে প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কুরআন শিক্ষা ও বয়স্ক স্তরের শিক্ষকদের দুই দিনব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ভাতার টাকা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দকৃত যাতায়াত ভাতা ও সম্মানী থেকে মোটা অঙ্কের টাকা কেটে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রশিক্ষণ নিতে আসা ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তবে উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার জামাল উদ্দিনের দাবি, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং খাবারের টাকা বাবদ এই অর্থ কেটে রাখা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের মাধ্যমে উত্তোলিত গত রমজানের জাকাত ফান্ডের ১ লাখ ৫ হাজার টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ফিল্ড সুপারভাইজার জামাল উদ্দিন তা সরকারি ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ও ২১ জুন উপজেলা হলরুমে প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কুরআন শিক্ষা ও বয়স্ক স্তরের শিক্ষকদের দুই দিনব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে বালাগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রশিক্ষণে ১৫ জন প্রশিক্ষক ও ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। ১৫ জন প্রশিক্ষকের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫০০ টাকা থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে তাঁদের দেওয়া হয় ১৩৫০ টাকা। অন্যদিকে ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য জনপ্রতি ১৮০০ টাকা বরাদ্দ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিক্ষকদের দুই দিনের দৈনিক ভাতা (ডিএ) ও যাতায়াত ভাড়ার (টিএ) জন্য এই টাকা দেওয়ার বিধান রয়েছে। মাস্টাররোলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ১৮০০ টাকা প্রাপ্তির স্বাক্ষর নেওয়া হলেও তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬০০ টাকা করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে আমাদের ১৮০০ টাকা দেওয়ার কথা ছিল এবং কাগজেও সেই অঙ্কের টাকায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬০০ টাকা। কারণ জানতে চাইলে অফিস মেরামতের কথা বলে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এদিকে দুই দিনের কর্মশালায় দুপুরের খাবারের যে মান ছিল, তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং বাজেট বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে শিক্ষকরা দাবি করেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দূর-দূরান্ত থেকে কষ্ট করে এসে প্রশিক্ষণ নিলাম। অথচ আমাদের হকের টাকা কেটে রাখা হলো। কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, অফিস মেরামত করার জন্য’। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, এগুলো ছাড়াও ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিভিন্ন খাতের টাকা উত্তোলন করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার জামাল উদ্দিন ও তাঁর সিন্ডিকেট। এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে ভবিষ্যতে চাকরিচ্যুতি বা বিভিন্নভাবে হয়রানির ভয় দেখান তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার জামাল উদ্দিন বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের দুই দিনের ভাতা ৬০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স ও আনুষাঙ্গিক খরচে গেছে। আর জাকাতের টাকা আগামী কর্মদিবসে ব্যাংকে জমা দিয়ে দেব।
এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেরিনা দেবনাথ বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা ও যাতায়াত খরচ কম দেওয়া এবং জাকাতের টাকা জমা না রাখার- দুইটি বিষয়েই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৮০০ টাকার বরাদ্দে প্রশিক্ষণার্থীদের ছয়শ টাকা কেন দেওয়া হবে? আমি পুরো বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আর জাকাতের টাকা সংগ্রহের পর তা সাথে সাথেই সরকারি ফান্ডে জমা দেওয়ার নিয়ম, তা নিজের কাছে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারি টাকা এভাবে নয়ছয় ও পকেটস্থ করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোদ্দুর রিফাত / সজল
মন্তব্য করুন: