লোকসানের মুখে বোরো চাষি
হাওরের কৃষকের গলার কাঁটা সরকারি দাম ও ফড়িয়া সিন্ডিকেট
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও কৃষকদের চোখে আনন্দ নেই। একদিকে চৈত্রের অকাল বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সহস্রাধিক হেক্টর জমির ফসলহানি, অন্যদিকে সরকারের নির্ধারিত ধানের ক্রয়মূল্য কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও গত বছরের মতো এবারও ধানের দাম অপরিবর্তিত রাখায় প্রান্তিক চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা (মণ প্রতি ১,৪৪০ টাকা), সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ খরচ যে হারে বেড়েছে, সেই তুলনায় এই দাম একেবারেই নগণ্য। শালকুমড়া হাওরের কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় না নিয়ে দাম নির্ধারণ করায় সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার অন্তত ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে, যার বড় অংশই টগার হাওরের। জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না এবং তীব্র শ্রমিক সংকটে ধান কাটার গতিও ধীর। বর্তমানে ৩৩ শতাংশ জমিতে ধান কাটা হলেও তা গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কম।
বাস্তব চিত্র আরও করুণ। হাওরাঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এবং ঋণের বোঝা মেটানোর তাগিদে কৃষকরা ভেজা ধান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সরকারি হিসাবে পাওয়ার কথা ছিল ১,৪০০ টাকার বেশি। ইসলামপুর গ্রামের কৃষক সারোয়ার হোসেন জানান, যারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন, তাঁদের প্রতি বিঘায় এক থেকে দুই হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, “সরকার যখন ধান কেনে, তখন দরিদ্র কৃষকরা সরাসরি বিক্রি করতে পারেন না। এই সুযোগে মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে লাভবান হয়।” স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সংগ্রহ অভিযান শুরু করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা নিশ্চিত না করলে এবার সুনামগঞ্জের হাজার হাজার কৃষক নিঃস্ব হয়ে যাবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: