রেশনিং পদ্ধতিতে পাম্প মালিকদের ক্ষোভ
সিলেটে জ্বালানি তেলের ‘কৃত্রিম’ সংকট
সিলেটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যাকে পাম্প মালিকরা সরকারের নীতিগত দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট একটি ‘কৃত্রিম’ সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন রেশনিং পদ্ধতির কারণে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্যমতে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো পাম্প তাদের নিয়মিত উত্তোলনের দ্বিগুণের বেশি তেল বিক্রি করতে পারবে না। এই সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মালিক লোকসানের আশঙ্কায় পর্যাপ্ত তেল উত্তোলন করছেন না।
সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসদ আজিম আদদান বলেন, “ডিপোতে তেল আছে, কিন্তু নীতিগত সমস্যার কারণে আমরা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদিত হওয়ায় এই অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। যমুনা অয়েল লিমিটেডের কর্মকর্তারাও ডিপোতে পর্যাপ্ত মজুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে সরকারি রেশনিং নিয়মের বাইরে সরবরাহ করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র অর্ধেক। এই সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, জেলা প্রশাসক সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই রেশনিং পদ্ধতি দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অনিশ্চিত অবস্থায় দ্রুত কার্যকর সমাধানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: