অভিভাবক ও এলাকাবাসীর তদন্ত দাবি
শাল্লায় স্কুল মাঠে বালু কেলেঙ্কারি: চার বছর ধরে মাঠ বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা
বিদ্যালয়ের মাঠ আছে,তবে সেই মাঠ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার অনুপোযোগী। এই অবস্থা চলছে চার বছর ধরে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও অবস্থার উত্তরণে পদক্ষেপ নেই স্কুল কর্তৃপক্ষের। কবে মাঠটি সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের খেলার উপযোগী করা তোলা হবে-সে বিষয়ে তথ্য জানা নেই সংশ্লিষ্টদের। ঘটনাটি সুনামগঞ্জের শাল্লার গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের। অভিযোগ রয়েছে-স্কুল কর্তৃপক্ষের যোগ-সাজসে প্রায় তিন বছর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্টান বিদ্যালয়ের মাঠে বালু স্তুপ করে রাখে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আপত্তির মুখে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর মৌখিক নির্দেশে মাঠ থেকে বালু অপসারণ করা হয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে স্কুল কর্তৃপক্ষের একটি আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসলে স্কুল কর্তৃপক্ষ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভার রেজুলেশন থেকে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে স্কুলের মাঠে বালু-পাথর রাখার কারণে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাথর মাটির সাথে গেঁথে রয়েছে। ফলে মাঠটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বালু-পাথর অপসারণের এক বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও মাঠ সংস্কার করে দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছর ছাত্ররা নিজ উদ্যোগে অ্যাডভোকেট সুব্রত দাশের সহযোগিতায় মাঠ সংস্কারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। দীর্ঘ ৪ বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও বিদ্যালয়ের মাঠটি ব্যবহার অনুপযোগী রয়েছে! দেখার যেন কেউ নেই।
প্রাক্তন ছাত্র ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত দাশ জানান, ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অবৈধভাবে বালু-পাথর রাখার বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর মে/২০২৫ এর শেষের দিকে বালু-পাথর অপসারণ করা হয়। কিন্তু অপসারনের কিছুদিন পরই ২৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দমোহন চৌধুরী এক সভার আহবান করেন এবং উক্ত সভায় বিদ্যালয়ের তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জনাব বিশ্বপতি চক্রবর্তী এর উপস্থিতিতে একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী ২ বছরের জন্য ৫ লক্ষ টাকায় লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও রেজুলেশন বহিতে অর্থের বিষয় কিংবা সময়সীমা কোন কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।
অভিভাবক ও এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানিয়েছেন, ঠিকাদারের বালু-পাথর দীর্ঘদিন থাকায় মাঠের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা করতে পারছে না এবং স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও জাতীয় দিবসসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজনও ব্যাহত হচ্ছে।
এ সময়কালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় বিদ্যালয়ের স্বার্থে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন ছাত্র ও অভিভাবকরা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন, ঠিকাদারকে ৭/৮ লক্ষ টাকার মূল্যের বালু ব্যবহার করে মাঠ সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হোক, এবং পরিচালন কমিটির কারো দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আানন্দ মোহন চৌধুরী বলেন, এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের স্বার্থে তৎকালীন আমার অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি টিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বালু রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই মাঠটি সংস্কার করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাগিদ অব্যাহত রয়েছে। তবে মাঠটি খেলার অনুপযোগী-এমনটি বলা যাবে না।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে সে সময় কীভাবে এবং কারা মাঠটি বালু ফেলার জন্য বরাদ্ধ দিয়েছিল.বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি গুরুত্বে সাথে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টি শাল্লা উপজেলার প্রথম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং এলাকার শিক্ষার একমাত্র অবলম্বন। এলাকাবাসী আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করবেন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: