শাল্লায় রোকেয়া দিবস ও দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন
যথাযথ মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একই দিনে বেগম রোকেয়া দিবস এবং আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস-২০২৫ পালিত হয়েছে। ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে পৃথক দুটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই দুটি সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস।
দিবস দুটি পালনে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। বেগম রোকেয়া দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— "নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি" এবং আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা: গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’।
বেগম রোকেয়া দিবসের আলোচনা সভায় বক্তাগণ নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে নারী শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, রোকেয়ার আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং বর্তমান সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসের আলোচনায় বক্তারা দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে নৈতিকতার পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেন। বক্তাগণ বলেন, নিজ নিজ অবস্থানে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে এবং দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ঘর ও অফিস পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাঁরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হয়ে একাত্ম, সংযত ও অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার পাশাপাশি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভা দুটিতে যারা বক্তব্য রাখেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন— শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায়, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান, মহিলা বিষয়ক অফিস ইন্সট্রাক্টর সত্য রঞ্জন দাস তালুকদার, গোবিন্দ চন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হেমন্ত কুমার সরকার ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক মহিপাল দাস মিল্টন, শাল্লা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার প্রমুখ।
এছাড়াও আলোচনা সভাগুলোতে জিও-এনজিওর বিভিন্ন কর্মকর্তা, মিডিয়া কর্মী, শিক্ষার্থী সহ নানা শ্রেণীপেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: