পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য, নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক-কর্মীরা
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে দালাল ও বহিরাগতদের বাড়তি দৌরাত্ম্যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। গত এক মাসে বেশ কয়েকবার হামলা ও মারধরের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালের অভ্যন্তরে। সেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জরুরি বিভাগ, এক্স-রে রুম ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায়ই দালালচক্রের সদস্যরা রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। চিকিৎসকরা রোগী রেফার করলে দালালরা তাদের ভুল পথে প্ররোচিত করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে—যার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
এক মাসে তিন হামলা
২৩ নভেম্বর জরুরি বিভাগে ঢুকে সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার) জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর করে সাব্বির আহমেদ নামে এক যুবক। ঘটনায় নার্সরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে ১৭ নভেম্বর এক্স-রে রুমে সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে দুই যুবক এক ওয়ার্ডবয়কে মারধর করেন। অভিযোগ দিলেও পরে আপস হয়ে যায়। অক্টোবরে সাপে কামড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন স্বজনরা।
‘হাসপাতালকে আড্ডাখানা ভাবছে দালালরা’
স্টাফ নার্স জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, “আমরা চিকিৎসা দিতে এসে মার খাচ্ছি। এভাবে কাজ করা যায় না।”
একজন নারী নার্স জানান, “গাইনি ওয়ার্ডেও দালালদের উৎপাত তীব্র। প্রতিবাদ করলে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।”
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. চিন্ময় বলেন, “দালালরা রোগীদের টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।”
কনসালট্যান্ট ডা. লিপিকা দাস বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে এখানে কোনো ভালো ডাক্তার আসতে চাইবে না। এতে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়বে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি—পুলিশ ক্যাম্প প্রয়োজন
তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “দালালচক্রটি স্থানীয় ও শক্তিশালী। কর্মীদের নিরাপত্তায় দ্রুত পুলিশ বা আনসার মোতায়েন প্রয়োজন।”
সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, “ঘনঘন হামলায় চিকিৎসক সংকট আরও বাড়বে। পুলিশ ক্যাম্পই একমাত্র সমাধান।”
ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, “হামলার মূল আসামি গ্রেফতার হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। চিকিৎসক-কর্মীদের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করা হবে।”
চিকিৎসক-কর্মীরা বলছেন, দ্রুত নিরাপত্তা বাড়ানো না হলে সেবার পরিবেশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: