রাজনৈতিক বিনিয়োগের সূচনা
সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কর্মীর ১০ লাখ টাকার চেক প্রদানে তোলপাড়!
সুনামগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এক নেতার হাতে কর্মীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার (২৫ অক্টোবর) জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে আয়োজিত জনসভায় এই ঘটনা ঘটে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল।
সমাবেশ চলাকালে স্থানীয় বিএনপি কর্মী নূর কাশেম সভামঞ্চে উঠে এসে কামরুজ্জামানের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেন। এই সময় সভামঞ্চে করতালিতে মুখর হলেও, ঘটনাটি ঘিরে পরবর্তীতে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নূর কাশেম এর আগেও আওয়ামী লীগপন্থী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে হাওর বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। তাদের মতে, এবারও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সুবিধা ও হাওর বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের আশায় এমন উপহার দেওয়া হয়েছে।
তবে চেকগ্রহীতা কামরুজ্জামান কামরুল বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটা আমার কর্মীদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। নূর কাশেমকে আমি আগে চিনতাম না, আজই প্রথম দেখা হয়েছে। রোববার ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। এমন ভালোবাসায় আমি আপ্লুত।”
তবে ‘অপরিচিত কর্মীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক কেন গ্রহণ করলেন’—এই প্রশ্ন এড়িয়ে যান কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “বিএনপি কর্মীরা দলের প্রতি এমনভাবেই ভালোবাসা প্রকাশ করে থাকে। আমি ধানের শীষের কথা বলছি, ধানের শীষে ভোট চাইছি।”
চেক প্রদানকারী নূর কাশেমের মন্তব্য জানতে তাঁর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আরও রয়েছেন প্রয়াত এমপি নজির হোসেনের স্ত্রী সালমা নজির, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আনিসুল হক, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী হামিদুল হক আফিন্দী, এবং ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব খান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সুনামগঞ্জ জুড়ে চলছে রাজনৈতিক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়—বিএনপি নেতাদের কেউ দেখছেন এটি ‘কর্মীর ভালোবাসা’ হিসেবে, আবার কেউ বলছেন, ‘এটি রাজনৈতিক বিনিয়োগের সূচনা’।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: