তাহিরপুরে টাইফয়েড টিকাদানে শিশুদের উৎসাহিত করতে শিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

তাহিরপুরে টাইফয়েড টিকাদানে শিশুদের উৎসাহিত করতে শিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

শামছুল আলম আখঞ্জী,তাহিরপুর প্রতিনিধি

২১/১০/২০২৫ ১৫:২১:৫৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টাইফয়েড টিকা প্রদানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী পন্থা গ্রহণ করেছেন প্রধান শিক্ষক নূরুল আলম।

টিকাদান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দূর করতে তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে ছন্দ মিলিয়ে স্লোগান ধরেন— “কি মজা, কি মজা, টিকা দিমু, টিকা দিমু—বাহ্ বাহ্!” এই স্লোগানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে করতালিতে। শিশুরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে টিকা নেয়। টিকাদানকে ঘিরে বিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রধান শিক্ষক নূরুল আলম বলেন, “ছোটদের মধ্যে টিকা নিয়ে ভয় কাজ করে। আমি চেয়েছি তারা যেন আনন্দের মধ্য দিয়ে টিকা গ্রহণ করে এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হয়।”

এই উদ্যোগ দেখে অভিভাবক ও এলাকাবাসী প্রশংসায় ভাসান প্রধান শিক্ষককে। তারা মনে করেন, এমন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াবে এবং টিকা ভীতি দূর করবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ক্যাম্পেইন অনুযায়ী তাহিরপুর উপজেলার ২৯২টি স্কুল ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে টাইফয়েড টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে, বাকি ১৮ হাজার শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী আরও ২৩ হাজার ৪০০ শিশু-কিশোরকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো উপজেলায় মোট ৫৬ হাজার ৪০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ বলেন, “সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় টিকাদান কার্যক্রম সুন্দরভাবে এগোচ্ছে। তবে তরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন উদ্দীপনামূলক পরিবেশ তৈরি হলে শিশুরা ভয় না পেয়ে টিকা নিতে উৎসাহী হবে।”

স্থানীয় যুবক আক্তার হোসেন বলেন, “শিক্ষকের এমন অনুপ্রেরণামূলক ভূমিকা দেখে ভালো লেগেছে। এতে টিকা কার্যক্রম শতভাগ সফল হবে বলে আশা করছি।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন: