হারে টি-টোয়েন্টি অভিযান শুরু বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অজি স্পিনাররা মিলে এই ম্যাচে ৯টি উইকেট নিয়েছেন, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাদের স্পিনারদের এমন কীর্তি।
লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ৩ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১৫০তম উইকেট পূর্ণ করেন। অন্যদিকে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিসও ৩ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দারুণভাবে শুরু করেন।
বাংলাদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ইনিংসে প্রথমবার কোনও দলের স্পিনাররা একসঙ্গে ৯ উইকেট শিকার করলেন। জাম্পা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বিশ্বে তিনি এই কীর্তি গড়া পঞ্চম লেগ স্পিনার। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন রশিদ খান, ইশ সোধি, আদিল রশিদ ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।
১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি সমস্যায় পড়েনি। কুপার কনোলি ২৭ বলে ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। টিম ডেভিডও বড় শট খেলে দলকে দ্রুত জয়ের পথে নিয়ে যান। ১০ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
তবে ম্যাচের মূল পার্থক্য গড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার বোলিং, বিশেষ করে স্পিন আক্রমণ।
ম্যাচের শুরুতে সাইফ হাসান প্রথম ওভারেই স্পেন্সার জনসনের বলে দারুণ শট খেলেন। অন্যপ্রান্তে জেভিয়ার বার্টলেটের ওভারে দুটি চার আসে। তবে তানজিদ তামিমের উইকেট নিয়ে জনসন প্রথম সাফল্য এনে দেন।
সাইফ হাসান আরও একটি চার মারার পর বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও সৌম্য সরকার একটি করে চার মেরে পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ৫২ রান করেন, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
৭ম ওভারে আক্রমণে এসে অ্যাডাম জাম্পা তাওহীদ হৃদয়ের স্টাম্প ভেঙে দেন। পরের ওভারেই সৌম্য সরকারও জাম্পার বলে আউট হন।
জোয়েল ডেভিস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট পান। পারভেজ হোসেন ইমন বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন।
এরপর ম্যাট রেনশো শামীম হোসেনকে আউট করেন। ডেভিস পরে অভিষেককারী আবদুল গাফফার সাকলাইনকেও সাজঘরে ফেরান।
নিখিল চৌধুরী রিশাদ হোসেনের উইকেট নেন। শেষ দিকে মাহেদী হাসান ২৯ রানে অপরাজিত থাকলেও বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ করতে পারেনি।
বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম আগের ওয়ানডের মতো এই ম্যাচেও শুরুতে উইকেট নেন। তিনি জশ ইংলিশকে আউট করেন।
তবে এরপর কুপার কনোলি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। এক ওভারেই শরিফুলকে টানা তিনটি চার মারেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ ১৩ রান করে আউট হন। এরপর টিম ডেভিড বড় ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগমন জানান দেন। কনোলিও একের পর এক বাউন্ডারি মেরে দলকে এগিয়ে নেন।
শেষ দিকে উইকেট হারালেও জয় নিশ্চিত অস্ট্রেলিয়ার
১০ম ওভারে সাইফ হাসানের বলে শরিফুলের ক্যাচে কনোলি আউট হন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা।
টিম ডেভিড ১৬ বলে ২০ রান করে আউট হন। পরে রিশাদ হোসেন ও সাকলাইন কয়েকটি উইকেট তুলে নিলেও অস্ট্রেলিয়ার জয়ে বাধা দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত বার্টলেট চার মেরে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: