২৩ মামলার আসামি হয়ে থামেনি বালু তান্ডব
যাদুকাটা ধ্বংসের নায়ক কুখ্যাত সেই রানু মেম্বার এখনও অধরা
সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীর কেটে বালু লুটের মহোৎসবে মেতেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রের মূল হোতা ২৩ মামলার আসামি ইউপি সদস্য মোশাহিদ হোসেন রানু এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দিন-দুপুরে কিংবা রাতের আঁধারে রানু মেম্বারের নেতৃত্বে বালুখেকো চক্রটি নদীর তীর কেটে চলায় বিখ্যাত পর্যটন স্পট ‘শিমুল বাগান’ এবং নির্মাণাধীন যাদুকাটা সেতু এখন চরম হুমকির মুখে।
সম্প্রতি তীর কাটার মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় এই চক্রের বিরুদ্ধে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুল কাইয়ুম খান বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় নতুন একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) ভোরে উপজেলার ইজারাবিহীন মাণিগাঁও শিমুল বাগানের সামনে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে ইউপি সদস্য রানু ও তার সহযোগী হাসান আলীর নেতৃত্বে শতাধিক শ্রমিক বালু লুট করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে বালুখেকোরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪ লাখ টাকা মূল্যের দুই শতাধিক ঘনফুট খনিজ বালুসহ একটি স্টিলবডি ট্রলার জব্দ করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ঘাগটিয়া গ্রামের মৃত একলাছ মিয়ার ছেলে ও বর্তমান ইউপি সদস্য মোসাহিদ হোসেন রানু এবং উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাণিগাঁও গ্রামের ছাদেক মিয়ার ছেলে হাসান আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সালাউদ্দিন মোল্লা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে শত শত ড্রেজার ও সেইভ (বালু তোলার) মেশিন চালানো হলেও প্রকৃত অপরাধীরা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু রানু মেম্বার বা হাসান আলীই নয়, এই চক্রের পেছনে স্থানীয় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। এই বালুখেকোদের যারা নেপথ্যে থেকে মদদ দিচ্ছেন, তাদেরও দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম প্রথম সিলেটকে জানান, "রানু মেম্বার একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।"
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন প্রথম সিলেটকে বলেন, "জেলায় ধোপাজান ও যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু-পাথর লুটের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ২৯৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। রানু মেম্বারসহ সব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।" তবে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "পুলিশ নিয়মিত অপরাধীদের ধরে আদালতে সোপর্দ করলেও তারা খুব দ্রুত জামিনে বের হয়ে আসে। এই চক্রকে পুরোপুরি দমনে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজার ব্যবস্থা করা জরুরি।"
লতিফুর রহমান রাজু / সজল আহমদ
মন্তব্য করুন: