জকিগঞ্জে অষ্টমী পূজায় ভক্তদের ঢল, ভক্তি-উচ্ছ্বাসে মুখর মণ্ডপ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসবের আবহে জকিগঞ্জ উপজেলায় অষ্টমী পূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে মণ্ডপে দেখা গেছে ভক্তি, ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসের অপূর্ব মিলনমেলা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ২টা পর্যন্ত অষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে ভক্তদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর—সব বয়সের মানুষ মায়ের চরণে অঞ্জলি দিতে ভিড় জমান। যদিও এবারে কোনো মণ্ডপে কুমারী পূজার আয়োজন দেখা যায়নি, তবুও ভক্তদের ভক্তি ও আন্তরিকতায় ছিল না কোনো ঘাটতি।
পূজা শেষে ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে মায়ের অঞ্জলি গ্রহণ করেন। অনেকের চোখে ছিল ভক্তির আবেগ, প্রার্থনায় ছিল শান্তি ও মঙ্গল কামনা।
সন্ধ্যা নামতেই মণ্ডপগুলো নতুন রূপে সেজে ওঠে। সন্ধ্যা ৬টার পর শুরু হয় আলতি আরতি, ধামাইল গান ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলোর ঝলকানি আর সুরের মূর্ছনায় মণ্ডপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশ, যা ভক্তদের হৃদয়ে এনে দেয় এক অনাবিল প্রশান্তি।
এদিকে আগামীকাল মহানবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে শ্রী শ্রী বাসন্তী মায়ের বিশেষ পূজা। পাশাপাশি মা কালীর সন্ধি পূজা, ভোগ নিবেদন ও অঞ্জলি প্রদান করা হবে—যা ঘিরে ভক্তদের মাঝে বিরাজ করছে বাড়তি আগ্রহ ও উৎসাহ।
অন্যদিকে, মির্জারচক গ্রামের দক্ষিণ হাওরের প্রবাসী অনুকুল রামের ফিশারিতে নির্মিত মন্দিরে অষ্টমী পূজার রাতে পরিদর্শনে আসেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমদ, যুবদল নেতা হাছনাত আহমদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় আয়োজক অনুকুল রাম তাঁদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।
অতিথিরা মণ্ডপে আগত ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কিছু সময় ধামাইল গানের সুরে মুগ্ধ হয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
রাকেশ রায়
মন্তব্য করুন: