সিলেটে গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে রহস্যজনক অগ্নিসংযোগ

সিলেটে গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে রহস্যজনক অগ্নিসংযোগ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৬/১১/২০২৫ ১২:৩৪:৩৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে গভীর রাতে ঘটে গেছে দুটি হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পার্কিংয়ে থেমে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে একটি পরিত্যক্ত বাসেও আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত তিনটার পরের এই ঘটনাগুলো একদিকে নিরাপত্তাহীনতার নতুন ভয় তৈরি করেছে, অন্যদিকে মানুষের জীবন রক্ষার শেষ ভরসা—অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়ায় নেমে এসেছে গভীর ক্ষোভ।


শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে—দুটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচ তরুণ এসে হাসপাতালের পার্কিংয়ে রাখা অ্যাম্বুলেন্সটিতে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন—“আমরা যেখানে প্রতিদিন প্রাণ বাঁচানোর যুদ্ধ করি, সেই হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে আগুন… এটা কেবল একটি গাড়ি নয়—মানুষের জীবনরক্ষার মাধ্যম। সেটিকে পুড়িয়ে দেওয়া মানবতাবিরোধী কাজ ছাড়া কিছু নয়।”


ফায়ার লিডার মোহাম্মদ ফজল মিয়া বলেন—“অ্যাম্বুলেন্সটি পুরোপুরি কার্যক্ষম ছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। বাসস্ট্যান্ডে যে বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়েছিল, সেটি পরিত্যক্ত ছিল। তালা ভেঙে আমরা আগুন নিভিয়েছি।”


সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. সাইফুল ইসলাম জানান—“আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।” নগরবাসীর প্রশ্ন—“জীবন বাঁচানোর গাড়ি পর্যন্ত নিরাপদ নয়?”


অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন—“আহত বা অসুস্থ মানুষকে বহন করার গাড়িও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে মানুষের জীবন কোথায় দাঁড়ালো?”


নগরবাসীরা বলছেন, এই ধরনের নাশকতা শুধু সম্পদ ধ্বংস করে না—মানুষের বিশ্বাস, নিরাপত্তা ও মানবতাকে আগুনের মতোই পুড়িয়ে দেয়।


দুটি অগ্নিসংযোগের রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। তবে ফুটেজে ধরা পড়া দৃশ্য, দুর্বৃত্তদের দ্রুতগতির পালানো, এবং ঘটনাদুটি একই রাতে ঘটায় প্রশ্ন উঠছে—এ কি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ—আর উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন পুরো সিলেট।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: