শাল্লায় খেলা নিয়ে বিরোধে হত্যাকাণ্ড: প্রধান আসামি র্যাবের জালে
সুনামগঞ্জের শাল্লায় বাচ্চাদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বর্বরোচিত হামলায় নিহত ছাদির হোসেন (৩৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুমন মিয়া (২৫)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঘটনার পর গা-ঢাকা দেওয়া এই আসামিকে দীর্ঘ দিন পর চট্টগ্রাম থেকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হলো।
গতকাল ১৭ জুন সন্ধ্যা ৭:২০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ (সুনামগঞ্জ) এবং র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম)-এর একটি চৌকস দল চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুরস্থ ১নং রেল গেইট এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের শাল্লা থানাধীন ফয়জুল্লাপুর এলাকার বাসিন্দা নিহত ছাদির হোসেনের পরিবারের সাথে প্রতিপক্ষের সামাজিক ও গ্রাম্য বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৯ মে বিকেলে বাচ্চাদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে বাকবিতণ্ডা হয়।
এই তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ওই দিন রাতেই ঘটে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় বিবাদী পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (দা, টেটা, লোহার রড, বল্লম, কুড়াল) নিয়ে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে ছাদির হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলা চলাকালীন মামলার প্রধান আসামি সুমন মিয়া তার হাতে থাকা লোহার কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাদির হোসেনের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারেন। কুড়ালের আঘাতে ছাদিরের মাথার পেছনে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ঘটনার নৃশংসতা আরও বাড়িয়ে দিতে ২নং আসামি নজরুল মিয়া লোহার রড দিয়ে ছাদিরের মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। ডাকচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছাদির হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৩০ মে সন্ধ্যা ৬:৩০ ঘটিকায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ছাদির হোসেন।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে শাল্লা থানায় পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩০২/৩৭৯/১১৪/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০১, তারিখ-০১/০৬/২০২৬)।
মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘটনার ছায়া তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বাহিনীটি। গ্রেফতারকৃত সুমন মিয়া শাল্লা থানার ফয়জুল্লাপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের চলমান অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়জুল্লাপুরসহ গোটা শাল্লা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রধান আসামিসহ সকল অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রীতম দাস/ তানজুবা তাবাসসুম
মন্তব্য করুন: