শাল্লায় পাউবোর স্থায়ী বাঁধে আদালতের ১৪৪ ধারা: কাজ বন্ধের নির্দেশ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে তীব্র আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। রেকর্ডীয় ফসলি জমিতে জোরপূর্বক বাঁধ নির্মাণের অভিযোগে সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রকল্প এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় পাউবোর সেকশন কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকল্পের রেকর্ডীয় জায়গার মালিক পিকলু তালুকদার বাদী হয়ে আদালতে এই পিটিশন দায়ের করেন। মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, পাউবো সেকশন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল মিয়া, ঠিকাদার ফারুক মিয়া ও শংকর চন্দ্র রায়কে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাদী পিকলু তালুকদার অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন রেকর্ডীয় ফসলি জমির ওপর দিয়ে পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে জোরপূর্বক বাঁধ নির্মাণ করছিল। তিনি আরও দাবি করেন, বাধা দেওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে উভয় পক্ষকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ দাস জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। মামলার প্রধান আসামি ওবায়দুল হক জানান, তিনি লোকমুখে নিষেধাজ্ঞার কথা শুনলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ পাননি। জনস্বার্থে বাঁধ নির্মাণ জরুরি হলেও ব্যক্তিগত জমির ক্ষতিপূরণ বা সম্মতি ছাড়া কাজ শুরু করায় এই আইনি জটিলতা প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: