নিউইয়র্ক প্রাইমারিতে ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের প্রার্থীদের জয়

নিউইয়র্ক প্রাইমারিতে ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের প্রার্থীদের জয়

প্রথম ডেস্ক

২৫/০৬/২০২৬ ১৭:০৬:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরাইল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি পরিষদের প্রাইমারি নির্বাচনে ইসরাইলের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তিন প্রার্থীর বড় ব্যবধানে জয় সেই পরিবর্তনেরই নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ ফলাফল শুধু কয়েকটি আসনের বিজয় নয়; বরং ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইল প্রশ্নে অবস্থান বদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।


প্রাইমারিতে জয় পাওয়া তিন প্রার্থী হলেন ব্র্যাড ল্যান্ডার, ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার। নির্বাচনি প্রচারণাজুড়ে তারা ইসরাইল সরকারের নীতির সমালোচনাকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। এই তিনজনই সমর্থন পেয়েছিলেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে সোচ্চার অবস্থানের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই মনোভাব আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জরিপেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট সমর্থক ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, বিপরীতে মাত্র ১৫ শতাংশ ইসরাইলের প্রতি বেশি সমর্থন জানিয়েছেন।


ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনও এ পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনেছেন। মেরিল্যান্ডের এই সিনেটরের ভাষ্য, দলটির আরও বেশি সদস্য এখন খোলাখুলিভাবে বলছেন—মার্কিন করদাতাদের অর্থে ইসরাইল সরকারকে নিঃশর্ত সহায়তা দেওয়ার নীতি পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। তার আশা, আগামী কংগ্রেসে ইসরাইলকে ‘স্বয়ংক্রিয় ও নিঃশর্ত সমর্থন’ দেওয়ার প্রবণতা আরও কমে আসবে।


নিউইয়র্কের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি ছিল ব্রুকলিনে। সেখানে বর্তমান কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যানের মুখোমুখি হন সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার। দুজনই নিজেদের উদারপন্থী জায়নিস্ট হিসেবে পরিচয় দিলেও প্রচারণাকালে ল্যান্ডার অভিযোগ তোলেন, ইসরাইলের নীতি নিয়ে গোল্ডম্যান যথেষ্ট সমালোচনামুখর নন। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেন ল্যান্ডার।


তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার। তিনি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য এবং ইসরাইলের দৃঢ় সমর্থক আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে পরাজিত করেছেন। পশ্চিম তীরে বসবাসের অভিজ্ঞতা এবং ফিলিস্তিনপন্থি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আগেই তিনি আলোচনায় ছিলেন; এবার নির্বাচনি জয় সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।


এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ইসরাইলপন্থি লবি সংগঠন আইপ্যাকের (এআইপিএসি) প্রভাব নিয়ে বিতর্ক। সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুপার প্যাক ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ চলতি বছরে বিভিন্ন নির্বাচনি লড়াইয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। কিন্তু নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ইলিনয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয় নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরের এই পরিবর্তনকে অনেকেই বৃহত্তর প্রজন্মগত রূপান্তরের অংশ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলপন্থি অবস্থানে থাকা প্রবীণ নেতাদের সরে যাওয়া এবং নতুন প্রজন্মের প্রার্থীদের উত্থান দলটির নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। যদিও এখনো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে, তাদের অনেকে আবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের নীতির কঠোর সমালোচক।

আগস্টে মিনেসোটা, মিশিগানসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনও একই কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে মিশিগানে ইসরাইলপন্থি ও ফিলিস্তিনপন্থি প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় রাজনীতিতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সজল আহমেদ / প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন: