ভোটারদের মতামত
সুনামগঞ্জে ১টি আসন ছাড়া সবকটি আসনে এগিয়ে বিএনপি
সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতেই বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন। দলীয় বিভাজন, মনোনয়ন দেরি ও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকলেও মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ ও তৃণমূল ভোটারদের সমর্থনে অধিকাংশ আসনেই বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। একমাত্র সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করায় সেখানে সমীকরণ ভিন্ন।
সুনামগঞ্জ-১: বিএনপি–জামায়াত লড়াই, সামান্য এগিয়ে বিএনপি
তাহিরপুর–জামালগঞ্জ–মধ্যনগর–ধর্মপাশা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ কার্যত নিষ্ক্রিয়। বিএনপির আনিসুল হক দীর্ঘদিন তৃণমূলে কাজ করায় এগিয়ে রয়েছেন। জামায়াতের তোফায়েল আহমদও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, তবে বিশ্লেষকদের মতে বিএনপি এগিয়ে।
সুনামগঞ্জ-২: ব্যতিক্রম—এগিয়ে জামায়াত
দিরাই–শাল্লা ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগ ঘাঁটি হলেও সমীকরণ বদলে গেছে। জামায়াতের শিশির মনির ধারাবাহিক প্রচারে এগিয়ে আছেন বলে স্থানীয়দের অভিমত। বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি; সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরীর আলোচনাই বেশি। অনিশ্চয়তার কারণে এই আসনে বিএনপি পিছিয়ে এবং একমাত্র এ আসনেই জামায়াত এগিয়ে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৩: বিএনপির কয়ছর আহমদ শক্ত অবস্থানে
জগন্নাথপুর–শান্তিগঞ্জ আসনে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা বেশি। বিএনপির প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই মাঠে সক্রিয় এবং তৃণমূল নেতাদের সমর্থনও পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার আলাদা চাপ তৈরি করলেও বিএনপিকে পিছিয়ে দিতে পারছেন না বলে ধারণা। জামায়াতের ইয়াসিন খানও প্রচারে আছেন, তবে বিএনপি এগিয়ে।
সুনামগঞ্জ-৪: মনোনয়ন না হলেও এগিয়ে বিএনপি
সদর–বিশ্বম্ভপুর আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থিতা চূড়ান্ত না করলেও নুরুল ইসলাম নুরুল ‘গ্রীন সিগন্যাল’ পাওয়ার পর প্রচারে সক্রিয়। এ আসনে বিএনপির চারজন মনোনয়নপ্রার্থী প্রতিযোগিতায় থাকলেও সামগ্রিক ভোটাধারার কারণে বিএনপি এগিয়ে বলে স্থানীয়দের অভিমত। জামায়াতের শামস উদ্দিন শক্ত অবস্থান নিয়েও দ্বিতীয় স্থানে।
সুনামগঞ্জ-৫: বিএনপির মিলন এগিয়ে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র
ছাতক–দোয়ারাবাজারে বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই মাঠে অগ্রগতি দেখাচ্ছেন। যদিও মিজানুর রহমান চৌধুরীর শক্ত সমাবেশ অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে, তবুও সামগ্রিক ভোটসমীকরণে বিএনপি এগিয়ে। জামায়াতের আব্দুস সালাম আল মাদানীও সক্রিয় থাকলেও পিছিয়ে আছেন।
জোট রাজনীতির অনিশ্চয়তা
জমিয়ত দাবি করেছে ১০টি আসন; বিএনপি দিতে চায় ৫টি। এ নিয়ে জোট–ঘোষণা বিলম্বিত হলেও সুনামগঞ্জে বিএনপির অবস্থান চারটি আসনে স্থিতিশীল।
ডিআরডি/ ২৩
মন্তব্য করুন: