মৌলভীবাজারে উপজেলা শিক্ষা অফিসে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন সহকারী শিক্ষক
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঢুকে এক প্রধান শিক্ষকের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী নাদিমুল হকের কক্ষে তাঁর উপস্থিতিতেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষকের নাম মিঞা মোহাম্মদ শহীদুল রহমান। তিনি দামিয়া আব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন মিঠারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে সহকারী শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রধান শিক্ষক মিঞা মোহাম্মদ শহীদুল রহমানের ওপর চড়াও হন। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি থাপ্পড়, কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে রক্তাক্ত করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। কক্ষে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থামানোর চেষ্টা করলেও জসিম উদ্দিনকে নিবৃত্ত করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধান শিক্ষককে দেখতে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হাসান। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাশিদা আক্তার বলেন, “একজন সরকারি কর্মচারীর প্রশাসনিক দপ্তরে ঢুকে এভাবে হামলা চালানো চরম জঘন্য, নিন্দনীয় ও পেশাগত শিষ্টাচারবহির্ভূত। এতে শিক্ষা অফিসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে জোর সুপারিশ পাঠোনো হয়েছে।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: