অধিকার আদায়ের দাবিতে সুনামগঞ্জে হোটেল শ্রমিকদের লাল পতাকা মিছিল
সরকার ঘোষিত নূন্যতম মজুরি গেজেট অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মিষ্টি ও বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামীতে কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
মঙ্গলবার বিকেলে শহরের রায়পাড়াস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি লাল পতাকা র্যালী বের করেন শ্রমিকরা। র্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলফাত উদ্দিন চত্বরে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি সুরঞ্জিত দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেক মিয়া।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা দেশে প্রচলিত শ্রম আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে চরম স্বেচ্ছাচারী উপায়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। আইনে স্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান করা হচ্ছে না। এছাড়া দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি, বছরে দুটি উৎসব বোনাস, সাপ্তাহিক দেড় দিন ছুটিসহ চিকিৎসা ও নৈমিত্তিক ছুটির মৌলিক অধিকার থেকেও সাধারণ শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সরকার ঘোষিত নূন্যতম মজুরি গেজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সকল শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া, হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বদিউজ্জামাল বদরুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন মিয়া, প্রচার সম্পাদক আল আমিন, কোষাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান, সদস্য জিষু পাল এবং নারী নেত্রী মরিয়ম বেগমসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রীতম দাস / রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: