৭ সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিবার
সুরমা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় জেলে নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮
সুরমা নদীতে রাতে বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী বালুভর্তি বাল্কহেডের ধাক্কায় এক দরিদ্র জেলে নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতের সাত সন্তানসহ পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক বাল্কহেডটি জব্দ করেছে এবং চালকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে সুরমা নদীতে নৌকায় বসে মাছ ধরছিলেন ওই জেলে। এ সময় প্রায় ৪০ হাজার ঘনফুট বালু-পাথর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশাল বাল্কহেড নৌ-আইন ও নৈশকালীন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে এসে ছোট মাছ ধরার নৌকাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নৌকাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং জেলেটি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জেলেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সম্প্রতি তার এক মেয়ের বিয়ে হলেও ঘরে রয়েছে আরও সাতটি ছোট সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাল্কহেডটি জব্দ করে। একই সঙ্গে বেপরোয়া নৌযান চালানো ও দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চালকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. মাসুদ করিম (৪৪), পিতা মো. মোস্তফা সিকদার, সাং বিরাটপুর, থানা বাকেরগঞ্জ, জেলা বরিশাল; শেফার উদ্দিন (৩৩), পিতা মৃত আবুল বাশার, সাং চর ভোল্লাখলা, থানা কবিরহাট, জেলা নোয়াখালী; মো. নুরুল হক (৫০), পিতা মৃত সিদ্দিক আহমদ, সাং কাটা মোবারক কোনা, থানা ও জেলা ফেনী; ওমর সিদ্দিকুর রহমান (৫৩), পিতা মো. ইসমাইল, সাং চর ভোল্লাখলা, থানা কবিরহাট, জেলা নোয়াখালী; রকিব মৃধা (২৬), পিতা মো. শহিদুল মৃধা, সাং পাটলা, থানা মোরেলগঞ্জ, জেলা বাগেরহাট; মো. নাছির উদ্দিন (৪৫), পিতা সামছুজ্জামান, সাং কুকুরিয়া, থানা মাগুরা সদর, জেলা মাগুরা; মো. ফয়ছল উদ্দিন (৩৯), পিতা মৃত আবুল বাশার, সাং চর ভোল্লাখলা, থানা কবিরহাট, জেলা নোয়াখালী এবং মো. মেহরাজ উদ্দিন (৩৪), পিতা মৃত হাফিজ আহমদ, সাং দক্ষিণ চর ক্লার্ক, থানা চরজব্বার, জেলা নোয়াখালী।
ঘটনার বিষয়ে সদর থানার ওসি রতন শেখ পিপিএম বলেন, নৌপথে আইন অমান্য করে নৈশকালীন বাল্কহেড চলাচল এবং বেপরোয়া গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই ঘাতক বাল্কহেডটি জব্দ করা হয়েছে। চালকসহ অভিযুক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। নৌপথে এ ধরনের বেপরোয়া ও অবৈধ চলাচলের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
প্রীতম দাস/ রত্না বাউরি
মন্তব্য করুন: