হাতেনাতে মাদকসহ আটক যুবককে ‘গায়েব’ করে অজ্ঞাত মামলা!

মাধবপুরে চরম ক্ষোভ

হাতেনাতে মাদকসহ আটক যুবককে ‘গায়েব’ করে অজ্ঞাত মামলা!

নিজস্ব প্রতিনিধি, মাধবপুর

০৮/০৮/২০২৬ ২১:৪৪:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মোটরসাইকেলে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ এক যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করল সাধারণ মানুষ ও পুলিশ কনস্টেবল। অথচ থানায় গিয়ে সেই ঘটনা রূপ নিল ‘পরিত্যক্ত মাদক উদ্ধারে’! আসামি ছাড়া মামলা দায়েরের এমন অবিশ্বাস্য কারসাজিতে তোলপাড় চলছে পুরো জেলাজুড়ে। পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ জুলাই শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রাম দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় মাদক (ইস্কাপ) পাচার হচ্ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় বনগাঁও গ্রামের রায়হান মিয়ার ছেলে আল মামুন নামে এক পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। স্থানীয় আশরাফ মিয়ার ধারণ করা ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়— আটক যুবকের মোটরসাইকেলের পাশে ব্যাগে থরে থরে সাজানো মাদকদ্রব্য, কিছু বোতল মাটিতে ছড়ানো। খোদ পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান ওই মাদক কারবারিকে শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন! অথচ তেলিয়াপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ঘটে অলৌকিক অঘটন— গায়েব হয়ে যায় আটক আসামি!

রহস্যের কালো ছায়া আরও ঘন হয় মামলার কাগজে। তেলিয়াপাড়া ফাঁড়ির এএসআই সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে যে মামলা ঠুকেছেন, তাতে কোনো আসামির নামই নেই! প্রকাশ্য দিবালোকে ভিডিওর স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কার অদৃশ্য ইশারায় ও কিসের বিনিময়ে হাতেনাতে ধরা পড়া চিহ্নিত মাদক কারবারিকে ছেড়ে দেওয়া হলো— এখন সেই প্রশ্নে মুখর নেটিজেন ও এলাকাবাসী।

দুর্নীতির চিত্র এখানেই শেষ নয়। স্থানীয়দের সরাসরি অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কমপক্ষে ১০০ বোতল ইস্কাপ জব্দ করা হলেও এজাহারে চালাকি করে দেখানো হয়েছে মাত্র ৫০ বোতল। বাকি অর্ধেক মাদক কোথায় গেল, সেই প্রশ্নও এখন বাতাসে ভাসছে।

এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ কাণ্ড নিয়ে তৈরি হয়েছে একে অপরকে দোষারোপের অদ্ভুত নাটক। কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান স্বীকার করেছেন, “আমি নিজে চেপে ধরে ছেলেটিকে আটকে রাখি এবং ফাঁড়িতে খবর দিই। পুলিশ টিম এসে মাদক ও বাইক উদ্ধার করে। এরপর আসামির কী হলো, আমি জানি না।” অথচ সম্পূর্ণ বিপরীত ও হাস্যকর দাবি ফাঁড়ির এএসআই সহিদুল ইসলামের। তিনি সাফ বলে দিলেন, “আমরা গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদক ও বাইক পেয়েছি, কাউকে পাইনি!”

খোদ এক কনস্টেবল যাকে হাতেনাতে ধরে রাখলেন, ফাঁড়ির টিম পৌঁছাতেই তিনি কীভাবে ‘পরিত্যক্ত’ হয়ে গেলেন— এই জবাব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ পুলিশের নেই। স্থানীয় জনতা ও সচেতন মহলের পরিষ্কার দাবি, নামকাওয়াস্তে তদন্ত নয়, এই লজ্জাজনক নাটক ও মাদক কারবারিকে আড়াল করার পেছনের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।

রাজীব দেব রায় রাজু / মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad