জাদুকাটায় মজুদ থাকা ১১০ কোটি টাকার বালু-পাথর সরানোর চেষ্টা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্ত নদী জাদুকাটার তীরে মজুদ থাকা প্রায় ১১০ কোটি টাকার অবৈধ বালু ও পাথর সরিয়ে নেওয়ার নতুন পাঁয়তারা চলছে। দু’দফা স্থগিত হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিওএমডি) কার্যালয়ে অনলাইনে নিলাম ডাক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিওএমডি গেল ০৯ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় গোপনে এ সংক্রান্ত নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর আগে ০৭ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিলামের উদ্যোগ নিলেও নানা অভিযোগের মুখে তা স্থগিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি সিন্ডিকেট কয়েক বছর ধরে জাদুকাটার চর ও তীরবর্তী সরকারি খাস জমি থেকে শতাধিক ড্রেজার ও সেভ মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছে। পাশাপাশি ভারত থেকেও চোরাচালানের মাধ্যমে পাথর এনে লাউড়গড়, ঢালারপাড়, ছড়ারপাড়সহ আশপাশের এলাকায় স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ১১০ কোটি টাকা।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব ওরফে ‘পাথর মোতালেব’ এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য রণজিত চন্দ্র সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে ছোটখাটো ব্যবসায়ী মোতালেব এখন এই অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরেজমিনে লাউড়গড় বাজার ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ বালু ও পাথরের স্তুপ দেখা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নিলামের আড়ালে বিওএমডির কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের একটি অংশকে ম্যানেজ করে মোতালেব চক্র সরকারি রাজস্ব ও কর ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালি–পাথর সরিয়ে নিতে চাইছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিওএমডির সহকারী পরিচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, 'দুই দফায় ১০ হাজার ৭৪৩ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। সেই পাথরই নিলামে তোলা হবে।' তবে আরও বিপুল পরিমাণ বালু ও পাথর কেন জব্দ হয়নি- এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, 'নিলাম সংক্রান্ত চিঠি বিওএমডি থেকে পাওয়া গেছে।'
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, 'জাদুকাটা নদীর তীর থেকে অবৈধ ভাবে উত্তোলিত সব বালু ও পাথর জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
এ রহমান
মন্তব্য করুন: