তীব্র দুর্গন্ধ ও যত্রতত্র বর্জ্য: জাফলংয়ে ভোগান্তিতে পর্যটকরা
পাহাড়, নদী আর পাথরের মিতালিতে গড়া প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি সিলেটের জাফলং। রূপের জাদু ছড়ানো এই জনপদকে বলা হয় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের অকৃত্রিম রাজ্য, যার মাধুরীতে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন সিলেট অভিমুখে। কিন্তু প্রকৃতির সেই অকৃত্রিম ক্যানভাসে এখন লেগেছে অযত্ন আর অবহেলার কালচে দাগ। জাফলংয়ের সেই চিরচেনা রূপ যেন আজ ঢাকা পড়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের নিচে। এতে চরম ভোগান্তিতে পর্যটকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেট, রেঁস্তোরাগুলোর পেছনের অংশ, মূল সিঁড়ির দুই পাশ এবং জিরো পয়েন্টের সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্লাস্টিক, পলিথিন ও পচনশীল বর্জ্য। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রেঁস্তোরার বর্জ্য সুনির্দিষ্ট কোনো স্থানে না ফেলে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখায় পুরো এলাকায় এক অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকার মীরপুর থেকে আসা এক পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন পাহাড় আর নদীর মায়াবী সৌন্দর্য দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে চারপাশের ময়লা আর তীব্র দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম! এত সুন্দর একটা জায়গা এভাবে নষ্ট হতে দেখে সত্যিই বুকটা কেঁপে ওঠে।
তবে সবচেয়ে নির্মম ও ভয়াবহ চিত্রটি ফুটে ওঠে রাতের আঁধারে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যটন কেন্দ্রের একাধিক শৌচাগারের মানববর্জ্য রাতের অন্ধকারে উন্মুক্ত স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে, মার্কেটের পূর্ব দিকে রাতের বেলা এই বর্জ্য ফেলার কারণে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দিন কিংবা রাত—যেকোনো সময় আসা পর্যটকরা এখানে পা রাখামাত্রই এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর অস্বস্তি নিয়ে ফিরছেন। যে জাফলংয়ে এসে মন জুড়ানোর কথা, সেখানে এখন দাঁড়িয়ে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। এই সংকটের কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।
পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আবদুল জলিল বলেন — যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে আমাদের পর্যটনের পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, এটা নির্মম সত্য। আমরা ব্যবসায়ীদের বারবার সচেতন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এখানে স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য অপসারণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় সংকটটি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত একটি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানাচ্ছি।
এই বিষয়ে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন- জাফলংয়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং রাতের আঁধারে বাথরুমের বর্জ্য নিষ্কাশনের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। পর্যটন কেন্দ্রকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুতই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপই এখন প্রকৃতিপ্রেমীদেও প্রত্যাশা।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: