শক্তিশালী সিন্ডিকেটের থাবায় ধ্বংসের মুখে যাদুকাটা: দুই আজাদের থাবা থেকে রক্ষার আহবান
বৃহত্তর সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক যাদুকাটা নদী আজ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের থাবায় ধ্বংসের মুখে। তাহিরপুরের মানুষের চোখের সামনে ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত নদীর পাড় কেটে বালু লুট করা হলেও অদৃশ্য আঁতাতের কারণে বারবার তা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে কেউ সাহসী ভূমিকা রাখতে গেলেই প্রভাবশালী চক্রটির টার্গেটে পরিণত হন এবং তাদের বিরুদ্ধে শুরু হয় আজাদ বাহিনীর নানা অপপ্রচার।
সম্প্রতি দিরাইয়ের বিশিষ্ট সাংবাদিক মশাহিদ আহমদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘দুই আজাদের থাবা থেকে যাদুকাটাকে বাঁচান!’ শিরোনামে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। ওই লেখার ভেতরেই উন্মোচিত হয়েছে সুনামগঞ্জে চলমান নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সিলেটের একজন খ্যাতিমান সাহসী সাংবাদিক যখন যাদুকাটার এই নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরলেন, তখনই শুরু হয় কুচক্রী মহলের আসল খেলা। জেলা পুলিশ ও ডিবির অভিযানে নামধারী ব্যক্তি হাবিব সরোয়ার আজাদের ছেলে ড্রেজারসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ওই সাংবাদিককে টার্গেট করা হয়েছে। নিউজ বন্ধ করতে এই চক্রটি মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখালেও সৎ সাংবাদিকের কাছে তা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা কুৎসা রটিয়ে চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে চক্রটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মূল হোতা ‘দুই আজাদ’। এদের মধ্যে একজনের ড্রেজার ব্যবসা বন্ধ এবং আরেকজনের নেপথ্য বিনিয়োগ আটকে যাওয়ায় তারা এখন সত্য আড়াল করতে মিথ্যা প্রচারণার পথ বেছে নিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বা অপপ্রচার চালিয়ে যাদুকাটার পাড় কাটা ও লুটপাটের মতো অপরাধ কখনো ঢাকা যাবে না। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি বিতর্কিত প্রকল্প বাতিলের পেছনে যে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়েও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে এর জবাব চাওয়া হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, এটি কেবল কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই নয়; বরং যাদুকাটা নদী বিধ্বংশী একটি অপরাধী সিস্টেমকে বয়কট করার ডাক। যাদুকাটাকে বাঁচানোর এই আন্দোলন সুনামগঞ্জের আপামর জনসাধারণের অস্তিত্বের লড়াই।
এ অবস্থায় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, কুৎসা রটনাকারীদের কথায় কান না দিয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি যাদুকাটা নদী রক্ষamত যারা সত্য প্রকাশ ও সাহসী কাজ করছেন, তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: