আজমিরীগঞ্জে তিন কলেজে জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ৩৮ শতাংশ
শিক্ষার্থী ভর্তি হন, কিন্তু নিয়মিত কলেজে আসেন না। শিক্ষকদের পাঠদানেও রয়েছে অনিয়ম। নেই যথাযথ তদারকি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন চিত্রের প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার ফলাফলে। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনটি কলেজের ৪৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১৮৭ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৩৮ দশমিক ০২ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
উপজেলার তিনটি কলেজের ফলাফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়া আজমিরীগঞ্জ সরকারি কলেজের ফলাফল তুলনামূলক হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪২৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৪৯ জন। ফেল করেছেন ২৮০ জন। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
গত বছর ২০২৫ সালে এ কলেজ থেকে ৩৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন ১৭০ জন। পাসের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী ৫০ জন বাড়লেও পাসের সংখ্যা কমেছে ২১ জন। পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে খারাপ চিত্র মানবিক বিভাগে। এ বিভাগে ৪০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১২৯ জন। ফেল করেছেন ২৭৩ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১৮ জন।
অন্যদিকে পাহাড়পুর আদর্শ কলেজ থেকে ৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৬০ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৩৫ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২ জন।
এ ছাড়া হাজী আব্দুল হাকিম ভুঁইয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শতভাগ। তবে পরীক্ষার্থী একজন হওয়ায় এ ফলাফলের পরিসর সীমিত।
আজমিরীগঞ্জ সরকারি কলেজের এমন ফলাফলের কারণ জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহা. শাহজাহান শেখ বলেন, আমাদের কলেজের ফলাফল ভালো হয়নি। শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যেমন অবহেলা রয়েছে, তেমনি শিক্ষকদেরও অবহেলা আছে। এলাকাটি প্রত্যন্ত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত কলেজে আসে না। আবার শিক্ষকেরাও ঠিকমতো ক্লাস নেন না। এসব বিষয়ে যথাযথ তদারকিও নেই।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান জরুরি। এ জন্য অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পরামর্শ প্রয়োজন। সামনে অভিভাবক সমাবেশ ডেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: