সুইজারল্যান্ডে নদীর তীরে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার

সুইজারল্যান্ডে নদীর তীরে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার

প্রথম ডেস্ক

০১/১১/২০২৬ ১৩:৫৭:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টেইন এলাকায় রাইন নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পরে তার রুমমেট এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রথম সিলেট প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে নিহত ৩৩ বছর বয়সী ব্যক্তিটি বুরুন্ডির নাগরিক হিসেবে নিখোঁজের তালিকাভুক্ত ছিলেন। আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় বাংলাদেশি ওই ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৪ অক্টোবর পরিচিত ব্যক্তিরা ৩৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানান। এর একদিন পর তারাই রাইন নদীর তীরে মানুষের দেহাবশেষ খুঁজে পান। তার যে আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করেন সেটি লাশ পাবার স্থান থেকে খুব বেশি দূরে নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেহের বিভিন্ন অংশ কেটে আলাদা করা হয়েছিল। পরে সেগুলো আবর্জনার ব্যাগে ভরে রাইন নদীতে এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে দেয়া হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাবশেষগুলো নিখোঁজ ওই ৩৩ বছর বয়সী ব্যক্তির বলে শনাক্ত করে ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট। একই সময়ে অপরাধের অস্বাভাবিক ধরন সম্পর্কে তদন্তকারীদের কাছে প্রাথমিক কিছু সূত্র আসে। কাছের আশ্রয়কেন্দ্রের কয়েকজন বাসিন্দার আচরণও তদন্তকারীদের সন্দেহের জন্ম দেয়।

এরপর আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র এবং মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশে তল্লাশি চালায়। জব্দ করা আলামত থেকে বাংলাদেশের ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাইনফেলডেন-লাউফেনবুর্গ জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিচার-পূর্ব আটক রাখার আবেদন জানিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ঘটনাক্রম এবং এর উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অপরাধটির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা গেছে। এসব সমস্যার সঙ্গে অপরাধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নির্দোষ বলে বিবেচনা করা হবে।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad