অফ-ডে কিংবা অন-ডে:বাণিজ্য মেলায় সব দিনই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

কেনাকাটা ও আনন্দে মুখরিত শাহী ঈদগাহ

অফ-ডে কিংবা অন-ডে:বাণিজ্য মেলায় সব দিনই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

হাসান কবির চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি

৩১/১০/২০২৬ ২১:৪৩:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

অফ-ডে বা ছুটির দিন হোক কিংবা সাধারণ কাজের দিন—সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত বাণিজ্য মেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সব বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভিড়। মেলার ১৭তম দিনেও পুরো প্রাঙ্গণ রূপ নেয় বিপুল আনন্দ ও উৎসবের নগরীতে। দীর্ঘ তিন বছর পর সিলেটে এমন বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রথম দিন থেকেই মেলামুখী হয়ে উঠেছেন সিলেটবাসী, যা প্রতিদিন নতুন উন্মাদনা ও বিপুল প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করছে।

সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে আয়োজিত এই মাসব্যাপী ‘সৃজনশীল পণ্য ও বাণিজ্য মেলা’র প্রতিদিনের চিত্রই এখন দারুণ উৎসব মুখর। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন বিকেলের দিকেই মেলা প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের পথগুলো দর্শনার্থী ও মেলাপ্রেমীদের সমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। মেলায় আসা সর্বস্তরের মানুষের উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় চারদিকে এক আনন্দময় পরিবেশ বিরাজ করে।

মেলায় আসা দর্শনার্থী সীমা আক্তার চোখে একরাশ তৃপ্তি নিয়ে বলেন, “ভেবেছিলাম ছুটির দিনে মানুষের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে শনিবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু শান্তিতে ঘুরব। কিন্তু মেলায় এসে দেখি অসাধারণ উদ্দীপনা! মাঠে যেন প্রানবন্ত মানুষের মেলা বসেছে। শিশুরা একে একে রাইডে চড়ছে, কেনাকাটা হচ্ছে—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর এমন একটি প্রাণবন্ত মেলা উপহার পেয়ে আমরা দারুণ আনন্দিত।”

এমনিতেই সিলেটবাসী মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রতি দারুণ অনুরাগী। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও আনন্দঘন পরিবেশে ঘুরে ঘুরে দেখছেন এবং গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে পছন্দসই পোশাক-আশাক ক্রয় করছেন।

মেলায় মোট ১২৫টি আধুনিক ও সুসজ্জিত স্টল রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৪০-৪২টি স্টল স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নামীদামী প্রতিষ্ঠানের স্টল মেলাকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রূপ। গৃহস্থালি সরঞ্জাম, ফ্যাশনসামগ্রী ও হস্তশিল্পের স্টলগুলোতে চলছে কেনাকাটার ধুম। প্রতিদিনের অভূতপূর্ব বিক্রি ও ব্যাপক জনসমাগমে দারুণ উচ্ছ্বসিত স্টল মালিকরা পুরো আয়োজনের সার্বিক সাফল্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কেনাকাটার পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়েছে চোখধাঁধানো সব রাইড। নাগরদোলা, বাম্পার কার, সুপার চেয়ার, ড্রাগন ট্রেন ও রোমাঞ্চকর ‘পবনের নৌকা’য় চড়ে শিশু ও প্রবীণরা মেতে উঠেছেন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে। বড়দের জন্যও রয়েছে আকর্ষণীয় গেমস ও ডিজিটাল রাইড। সেই সাথে রকমারি চটপটি, ফুচকা ও সুস্বাদু খাবারের স্টলগুলোতে মেলাপ্রেমীদের উপচে পড়া ভোজনরসিক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।

মেলার ধারাবাহিক সাফল্য ও সার্বিক সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমীন শম্পা অত্যন্ত আশাবাদ ও উদ্দীপনা ব্যক্ত করে বলেন, “মেলাটি সিলেটবাসীর কাছে স্মরণীয় ও সফল করে তোলা আমাদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা ছিল। দর্শনার্থীদের প্রতিটি চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে মেলাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের ‘উইমেন চেম্বার জোন’ সবার দৃষ্টি কাড়ছে। অফ-ডে কিংবা অন-ডে—প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের অভূতপূর্ব সাড়া আমাদের অভিভূত করেছে। সিলেটবাসীর এমন ভালোবাসা ও পাশে থাকা এই আয়োজনকে আরও সার্থক ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad