সিলেটে সুলতানি আমলের প্রাচীন একমাত্র‘ গায়েবি মসজিদ’ ভাঙার অপচেষ্টা

নাগরিক সমাজের ক্ষোভ ও রক্ষার আহ্বান

সিলেটে সুলতানি আমলের প্রাচীন একমাত্র‘ গায়েবি মসজিদ’ ভাঙার অপচেষ্টা

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

৩০/১০/২০২৬ ১৬:৫৪:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ওসমানীনগরে সুলতানি আমলে নির্মিত প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ বছরের প্রাচীন এক গম্বুজবিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী ‘গায়েবি মসজিদ’ ভেঙে ফেলার অপচেষ্টা চলছে। এমন সংবাদ পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন নাগরিకులు। এ প্রেক্ষাপটে ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের নাগরিক প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

স্থানীয় উসমানপুর ইউনিয়নের তাজপুর-বালাগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত এই প্রাচীন মসজিদটি ঘিরে রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের মতে, এটি সিলেট জেলার একমাত্র টিকে থাকা সুলতানি আমলের মসজিদ। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় জঙ্গল পরিচ্ছন্ন করার সময় মাটির নিচ থেকে গায়েবিভাবে এটি আবিষ্কৃত হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এটি 'গায়েবি মসজিদ' নামে পরিচিতি পায়।

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট-এর চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, বিশিষ্ট পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলন সংগঠক আব্দুল করিম কিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মনির হেলাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দীপন এবং প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহার।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলটি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐতিহাসিক এই প্রত্নসম্পদের গুরুত্ব বুঝতে না পেরে কতিপয় ব্যক্তি স্থানটিতে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রাচীন স্থাপত্যটি ধ্বংসের পরিকল্পনা করছেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এবং ওয়াকফ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত মসজিদটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, "সঠিক মূল্যায়নের অভাবে ইতোমধ্যেই ঐতিহাসিক এই মসজিদের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মেহরাব ও দেয়ালে আধুনিক রঙিন টাইলস বসানো প্রত্নতাত্ত্বিক নিয়মের পরিপন্থী ও অনুচিত কাজ হয়েছে। সিলেট অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে মিশে থাকা এই একমাত্র সুলতানি স্থাপত্য বিনাশের দায় আমরা কেউ এড়াতে পারি না। প্রাচীন নকশা বিনষ্ট করে নতুন ভবন তোলার চিন্তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"

তারা আরও যুক্ত করেন, "প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে মসজিদটি এলাকার আধ্যাত্মিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে, সেটিকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে হবে।"

সিলেটের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সুরক্ষায় নিয়োজিত সংগঠন ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে এই অমূল্য ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সকল এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad