জামালগঞ্জে এসএসসি ফলাফলে এগিয়ে মেয়েরা
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টির মোট ১৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। পাসের হারে দ্বিতীয় হাজী আছির উদ্দিন, তৃতীয় সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় জামালগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলে পাসের হারের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হাজী আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির ১৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
এছাড়া ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, নবীনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ, আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং বেহেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ শতাংশ।
তবে আছরাবাদ জুন মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং আব্দুল মুকিত উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৪২ শতাংশ।
উপজেলায় মোট পাসের হার ৬৩.৪৭ শতাংশ জামালগঞ্জ উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার মোট ৯৬১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬১০ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। সম্মিলিত পাসের হার ৬৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এসব বিদ্যালয় থেকে মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পাসের হারে প্রথম হলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষে। ফলে এবারের ফলাফলে মেয়েদের প্রতিষ্ঠান পাসের হারে এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ এর সংখ্যায় মডেল স্কুলের অবস্থান সবার ওপরে।
মাদ্রাসায় পাসের হার ৪৯.৩৩ শতাংশ জামালগঞ্জ উপজেলার দাখিল ও আলিম পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোর ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ৬টি মাদ্রাসায় ২২৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১১ জন পাস করেছে। সম্মিলিত পাসের হার ৪৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে নওয়াগাঁও অষ্টগ্রাম ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এছাড়া লক্ষ্মীপুর তাওয়াক্কোলিয়া দাখিল মাদ্রাসার পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, কালিপুর নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৫৫ শতাংশ, হাজী জুলেখা তৈয়ব ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৫০ শতাংশ, লক্ষ্মীপুর তায়েবুল ইসলাম রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ এবং উকন্দেশপুর দাখিল মাদ্রাসার পাসের হার ২৮ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফলে মাদ্রাসাগুলো থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। ফলাফলে সন্তুষ্ট সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাকর মজুমদার।
তিনি বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের ফলাফলে আমি অনেক খুশি। বিশেষ করে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এবার অনেক ভালো ফলাফল করেছে। জিপিএ-৫-এর ক্ষেত্রে আরও চারজন শিক্ষার্থী কাছাকাছি ছিল। শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিদ্যালয়ের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলেই এই ভালো ফলাফল এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণে ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
সামগ্রিক ফলাফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জামালগঞ্জে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে একদিকে যেমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভালো সাফল্য পেয়েছে, অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিবিড় যোগাযোগ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সহযোগিতা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো গেলে আগামী বছর জামালগঞ্জের ফলাফল আরও ভালো করা সম্ভব।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফলে জামালগঞ্জের মোট চিত্রে এবার পাসের হারে মেয়েদের বিদ্যালয়ের সাফল্য এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এগিয়ে থাকা—দুই দিকই বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
রকি ইসলাম/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: