সিলেট বোর্ডে বড় ধরনের ধস: ১৮ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এবার পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ফল প্রকাশের পর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন জানান, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা এবারের খারাপ ফলের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ দুটি বিষয়ে বেশি ফেল করেছে। দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তিনি।
এবার বোর্ডে মোট ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন এবং ফেল করেছে ৩৭ হাজার ১২২ জন।
মানবিক বিভাগে এবার পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ বিভাগে ৫৭ হাজার ৭৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৭ হাজার ৮১৫ জন। ফেল করেছে ২৯ হাজার ৯৪৫ জন। গত বছর এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।
অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। ফলে মানবিক বিভাগের তুলনায় বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় ফল তুলনামূলক ভালো হয়েছে।
সামগ্রিক পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন, গত বছর পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। বেড়েছে ২২২ জন।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৬০৮ জন। মানবিক বিভাগে ১২০ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ১০৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সামগ্রিক ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ, আর মেয়েদের ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
চার জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে সিলেট জেলা—৬৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এরপর মৌলভীবাজারে ৫৭ দশমিক ৭১, সুনামগঞ্জে ৫৬ দশমিক ৯৩ এবং হবিগঞ্জে ৫৬ দশমিক ৯২ শতাংশ।
এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ৯টিতে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ছিল ৭টি। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানেই শতভাগ ফেল নেই।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও জানান, এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ফলাফল এসেছে। ভবিষ্যতে ইংরেজি ও গণিতে দক্ষ শিক্ষক বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া গেলে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিডি/ নীরব
মন্তব্য করুন: