নৃত্যশৈলীর অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক
‘মানবিক সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে’
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, যে কোনো দেশের উন্নয়নে সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে না পারলে একটি দেশ পিছিয়ে পড়ে। তাই সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রিকাবীবাজারস্থ এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নৃত্যশৈলী’র আয়োজনে ‘উৎসব সভা—মাঝে শ্রাবণের বীণা বাজে’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক সিলেটের সংস্কৃতিচর্চার সমৃদ্ধ অতীত ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, সংস্কৃতিচর্চায় সিলেট সবসময়ই অগ্রগণ্য। অতীতের সেই ধারাবাহিকতায় এখনও সিলেটে সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত রয়েছে।তিনি বলেন, “সংস্কৃতিচর্চাকে আরও বেগবান করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিগত ১৭ বছর সংস্কৃতির যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়নি। ফলে সিলেটে সংস্কৃতিচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।”
সংস্কৃতিচর্চার প্রসারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে সিসিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামকে সংস্কৃতিচর্চার উপযোগী করে সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “সংস্কৃতিচর্চার জন্য এই অডিটোরিয়াম উন্মুক্ত থাকবে। এটিকে আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ বলেন, সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা প্রয়োজন। সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেই মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে।তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও দুই দেশের মানুষের মধ্যে গভীর যোগাযোগ রয়েছে। সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও অর্থবহ করা সম্ভব।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৃত্যশৈলীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য্য ও পরিচালক নীলাঞ্জনা জুঁই।
এর আগে অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো, চলচ্চিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, লেখক ও গবেষক অপূর্ব শর্মাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: