শাল্লায় নদীভাঙনের মধ্যেই বালু উত্তোলন, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

শাল্লায় নদীভাঙনের মধ্যেই বালু উত্তোলন, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি, শাল্লা

০৮/০৮/২০২৬ ২২:০৯:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একদিকে তীব্র নদীভাঙনে একের পর এক গ্রাম বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বালু উত্তোলনের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর, বিষ্ণুপুর, প্রতাপপুর বাজার ও শাল্লা গ্রাম নদীভাঙনের কারণে এখন হুমকির মুখে। এর মধ্যেই প্রতাপপুর বাজার সংলগ্ন নদীতে কয়েকটি বড় স্টিল বোট দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুবাহী নৌকার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এই বালু উজান থেকে আনা হয়েছে। নোয়াগাঁও এলাকার শাহীন মিয়া এই বালু সরবরাহ করছেন এবং এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাজের বালু বলে তারা দাবি করেন।


তবে এ বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওবায়দুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, 'আমি এখনই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তারা কোথা থেকে বালু আনছে এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।'


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙনে ইতিমধ্যে অনেক বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই অবস্থায় নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট জনপদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, ভাঙন রোধে পাউবো যে কাজ করছে, তা মানসম্মত নয়। স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে সাময়িক মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।


এলাকাবাসী অবিলম্বে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ, ভাঙনকবলিত এলাকায় কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাউবোর কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিশিকান্ত সরকার / ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad