দিনে আসে ৮০০ রোগী, মেঝেতে চলে চিকিৎসা

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল:

দিনে আসে ৮০০ রোগী, মেঝেতে চলে চিকিৎসা

ফয়সল চৌধুরী,হবিগঞ্জ

১৫/০৬/২০২৬ ১৪:০৯:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল জেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসাস্থল। কিন্তু ‘আধুনিক’ নামের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। শয্যা সংকট, ওষুধের অভাব, জনবল ঘাটতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের।


সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে অসংখ্য রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা এবং করিডোরে শুয়ে থাকতে হচ্ছে। শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের অনেককে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে। একই বেডে দুজন রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। স্বজনরা রোগীর পাশে মেঝেতে রাত কাটাচ্ছেন। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, রোগীরা প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের সীমিত কিছু ওষুধ মিললেও প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধই পাওয়া যায় না। বিনামূল্যে চিকিৎসার আশায় আসা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীদের তাই ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।


একাধিক রোগীর স্বজন জানান, “সরকারি হাসপাতালে এসে শেষ পর্যন্ত বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে, টেস্টও করাতে হচ্ছে বেসরকারি জায়গায়। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”


জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় বিপুলসংখ্যক রোগী প্রতিদিন এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শয্যা সংকট ও জনবলের ঘাটতির কারণে হাসপাতালটি এই ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।


এছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খুবই নাজুক। ময়লা-আবর্জনা দ্রুত না সরানোয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, টয়লেটগুলো রোগী ও স্বজনদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় একজন চিকিৎসককে একসঙ্গে অনেক রোগী দেখতে হচ্ছে। ফলে সেবার মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।


সচেতন নাগরিক ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার স্বাস্থ্যখাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো বছরের পর বছর ধরে সমাধানহীন পড়ে আছে। তারা দ্রুত শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: