সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র রাতারগুলে বৃক্ষরোপণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র রাতারগুলে বৃক্ষরোপণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা সিলেট শাখা এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের যৌথ উদ্যোগে গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল জলারবনের মাঝেরঘাটে বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশতাধিক গাছ লাগানো হয়।
একইসঙ্গে বন ও বনসংলগ্ন এলাকা থেকে পাঁচ বস্তারও বেশি প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়।
এ সময় ধরার সিলেট শাখার আহ্বায়ক ও পরিবেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের সভাপতি মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন ধরার সংগঠক মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক, পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম।
অধ্যাপক জহিরুল হক বলেন, ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য সংকটাপন্ন। এ সংকট থেকে রক্ষা পেতে অনেকগুলো কার্যকর ও সহজ উপায়ের একটি হলো বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ। বাংলাদেশের জন্য অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর তিন ভাগের এক ভাগও কার্যকরি বন নেই।
আব্দুল করিম কিম বলেন, ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে সুইডেনের স্টকহোম শহরে অনুষ্ঠিত পরিবেশ সম্মেলনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ ও প্রতিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি হল এ দিবসের মূল উপজীব্য।
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার বলেন, রাতারগুল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে এখানকার ভূমিকে নদী ভাঙনের শিকারে পরিণত করা হয়েছিল। এলাকার সচেতন জনগণকে নিয়ে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় সরকার কঠোর হয়। ফলে আপাতত তা বন্ধ রয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উজ্জ্বল রায়, ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার রায়, পরিবেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া, ধরা সিলেট শাখার সদস্য নাহিদ পারভেজ বাবু ও সোনা মিয়া, ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, রাতারগুল গ্রামের আমির আলী, আরব আলী, মিনহাজ উদ্দিন, ফজলু মিয়া।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: