৬৩টি স্বপ্নের একসঙ্গে উড়াল, এতিম কন্যাদের জন্য সিলেটে দৃষ্টান্ত স্থাপন
একটি দিন, ৬৩টি জীবন, অসংখ্য স্বপ্নের নতুন ঠিকানা। সিলেট নগরের এক কনভেনশন সেন্টার যেন পরিণত হয়েছিল আবেগ, মানবিকতা আর ভালোবাসার এক অপূর্ব মিলনমেলায়। যেখানে এতদিনের অনিশ্চয়তা, অভাব আর একাকীত্ব পেছনে ফেলে একসঙ্গে নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন ৬৩ এতিম কন্যা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বালুচর এলাকায় আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী গণবিবাহের উদ্যোগ নেয় যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সংগঠন Seeds of Sadakah (SOS)। রংপুর ও সিলেট অঞ্চলের এই কন্যাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় সম্পূর্ণ বিনা খরচে, যৌতুক ছাড়াই—যা আজকের সমাজে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক গভীর আবেগঘন পরিবেশ। কারও চোখ বেয়ে গড়িয়েছে আনন্দের অশ্রু, কেউবা নীরবে তাকিয়ে থেকেছেন জীবনের নতুন অধ্যায়ের দিকে। এতদিন যাদের জীবনে ছিল অনিশ্চয়তা, তাদের মুখে ফুটে উঠেছে নিরাপত্তা আর স্বপ্নের আলো।
এই আয়োজন শুধু একটি বিয়ে নয়—এ যেন দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা আর মানবিকতার এক শক্ত বার্তা। আয়োজকদের ভাষায়, “আমরা চাই, কোনো মেয়েই যেন অবহেলা আর অসহায়ত্ব নিয়ে জীবন কাটাতে না হয়। তাদের জন্য সম্মানজনক একটি পরিবারই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা বলেন, যৌতুক ছাড়াও বিয়ে সম্ভব—এই আয়োজন তার জীবন্ত প্রমাণ। সমাজে বিয়েকে সহজ ও মানবিক করার যে আহ্বান, এটি সেই চেতনারই প্রতিফলন।
দেশবরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ শাহ ওয়ালীউল্লাহ বিয়ের খুতবা পাঠ করেন। একে একে সম্পন্ন হয় ৬৩টি দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর নবদম্পতিদের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনায় করা হয় বিশেষ মোনাজাত।
নতুন জীবনের শুরুটিকে একটু সহজ করে দিতে প্রতিটি দম্পতিকে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী—খাট, বালিশ, তোশক, পোশাক ও রান্নার সরঞ্জাম। যেন নতুন সংসারের প্রথম দিনগুলোতে কোনো অভাব তাদের পিছু না নেয়।
সেদিন বালুচরের সেই প্রাঙ্গণ নিছক একটি অনুষ্ঠানস্থল ছিল না—এটি ছিল ভালোবাসা আর সহমর্মিতার এক নীরব বিপ্লবের সাক্ষী। যেখানে ৬৩টি জীবনের গল্প শুরু হলো নতুন করে, নতুন আলোয়, নতুন আশায়।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: