১৫৫ কোটি টাকার সেতু আলোহীন, সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে অপরাধ

সুনামগঞ্জের রানীগঞ্জ সেতু

১৫৫ কোটি টাকার সেতু আলোহীন, সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে অপরাধ

দুলন মিয়া, নিজস্ব প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর

১৫/০৯/২০২৫ ১২:৩১:০৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত রানীগঞ্জ সেতু ভাটি অঞ্চলের ‘পদ্মা সেতু’ নামে খ্যাত। তবে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটি উদ্বোধনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই লাইট বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে সেতু ও আশপাশের সংযোগ সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ। এতে আতঙ্কে রয়েছেন প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, ৭০২ মিটার দীর্ঘ রানীগঞ্জ সেতু চালুর পর হাওড় অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। ঢাকার দূরত্ব কমে যায় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার, আর সুনামগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জে যাতায়াতের সময় বাঁচে দুই ঘণ্টা। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও যাত্রী সেতু দিয়ে পারাপার করছেন, পাশাপাশি সেতুটি দেখতে আসছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কিন্তু উদ্বোধনের কিছুদিন পর থেকেই একে একে প্রায় সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এখন সন্ধ্যা নামলেই পুরো সেতু ও আশপাশের এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আলো না থাকায় দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঘটনা বেড়েছে। উত্তর প্রান্তের গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের হাজী আখলই বলেন, “সেতু চালুর পর আমরা অনেক আশা করেছিলাম। কিন্তু সন্ধ্যার পর লাইট বন্ধ থাকায় এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত সেতুর দুই প্রান্তে পুলিশ বক্স স্থাপন দরকার।”


দক্ষিণ প্রান্তের আলমপুর গ্রামের মনজু মিয়া বলেন, “অন্ধকারে মানুষজন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছে। চুরি ও ছিনতাই বাড়ছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

লাইটিংয়ের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা মো. জমিরুল মিয়া জানান, “সেতুর লাইটের কাজ করার কথা ছিল এমএম বিল্ডার্সের। শর্ট সার্কিট থেকে সমস্যা হয়েছে, সুইচ দিলে আগুন ধরে যায়। কোম্পানি এখনো কাজ শেষ করেনি।”

এবিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, “রানীগঞ্জ সেতুর লাইটগুলো দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে না। শিগগিরই বরাদ্দ দিয়ে এগুলো মেরামত করা হবে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন: