আজমিরীগঞ্জে চার মাস ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িসহ ওষুধের সংকট

আজমিরীগঞ্জে চার মাস ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িসহ ওষুধের সংকট

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৭/১১/২০২৬ ১২:৩৮:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িসহ বিভিন্ন ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। গত চার মাস ধরে এসব ওষুধের সরবরাহ না থাকায় সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে মাঠপর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অনুমোদিত ৫৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৯ জন। শূন্য রয়েছে ২৫টি পদ। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে পুরো উপজেলার সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, কার্যালয় ও মাঠপর্যায়ে মোট ১৪ ধরনের পদে ৫৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদিত জনবল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৯ জন।

সবচেয়ে বেশি জনবল সংকট পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে। এ পদে ২৩ জনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। শূন্য রয়েছে ১২টি পদ। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদে পাঁচটির মধ্যে দুটি এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারী পদে তিনটির মধ্যে একটি পদ শূন্য রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের পাঁচটি পদই পূর্ণ রয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টের দুটি করে পদ থাকলেও এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো জনবল নেই। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

অন্যদিকে, গত চার মাস ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। বিশেষ করে নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী নারীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সিলেট আরডব্লিউএইচ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের জন্য ১০ হাজার ৮০০ পিস কনডম এবং ৪ হাজার ৮০০ পাতা ওরাল পিল সরবরাহ করা হয়েছিল। সরবরাহ পাওয়ার পরপরই সেগুলো মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা হয়।

তবে এরপর দীর্ঘদিন নতুন করে ওষুধের সরবরাহ না আসায় মাঠপর্যায়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এদিকে চলতি বছরের ২২ জুলাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মাধ্যমে নয়জন নারী স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির পাশাপাশি অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপকরণ ও ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়বে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু কায়সার মো. আব্দুল হাদী বলেন, দীর্ঘ চার মাস ধরে কোনো ধরনের ওষুধ নেই। এ বছরের শেষের দিকে ওষুধ পাওয়া যেতে পারে। এ দপ্তরে অনুমোদিত পদের বিপরীতে অর্ধেকের বেশি জনবল কম রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad