শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে সুনামগঞ্জে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের লাল পতাকা র্যালি
শোষণ-নিপীড়নমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে মহান রুশ বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে লাল পতাকা র্যালি ও আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। কর্মসূচি থেকে শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় শহরের রায়পাড়ায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে লাল পতাকা র্যালিটি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়ার পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রত্নাংকুর দাস জহর, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সদস্য টিটু দাস, সুরঞ্জিত দাস, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পৌরসভা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাশিয়ার কমিউনিস্ট (বলশেভিক) পার্টির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষকের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শোষণব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল। শ্রমজীবী মানুষের রাষ্ট্রক্ষমতা প্রতিষ্ঠার সেই ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মহান রুশ বিপ্লবের শিক্ষা হচ্ছে শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের দেশীয় সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন জনবিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি সংস্থার কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ, মিয়ানমারকে করিডোর প্রদান, চট্টগ্রামে মার্কিন উপস্থিতি এবং নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে গোপন চুক্তির বিষয়গুলো তুলে ধরে তাঁরা জাতীয় স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
শ্রমিকদের জীবনযাত্রার সংকট তুলে ধরে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ বর্তমান মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাঁরা বলেন, শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনে নামলে হামলা, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এমন শ্রম আইন প্রয়োজন, যেখানে শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে সংগঠন গড়ে তুলতে পারবেন এবং কোনো ধরনের বাধা বা হয়রানি ছাড়াই ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য সর্বস্তরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
আলোচনা সভা থেকে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির যুদ্ধ, আগ্রাসন ও শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, মহান রুশ বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। শোষণহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: