ভুক্তভোগীর অভিযোগ
সুনামগঞ্জে বিকাশের ডিএসওর ৪ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও!
সুনামগঞ্জে ব্যবসায়িক লেনদেনের কথা বলে বিকাশের এক ডিএসওর কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নেওয়ার পর এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা নেওয়ার পর থেকে ওই ব্যবসায়ী মোবাইল ফোনে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় নিজের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ রেজাউল করিম বুলবুল বিকাশের ডিএসও হিসেবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় কর্মরত। তাঁর অভিযোগ, রঙ্গারচর ইউনিয়নের আদার বাজারের মোশাহিদ টেলিকমের মালিক মো. মোশাহিদের সঙ্গে গত প্রায় তিন বছর ধরে তাঁর নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। প্রতিদিন তাঁদের মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার লেনদেন হতো। দীর্ঘদিনের এই লেনদেনে আগে কোনো সমস্যা হয়নি।
রেজাউল করিম বুলবুলের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন টাউন হল এলাকায় মোশাহিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় মোশাহিদ হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে টাকার প্রয়োজন জানান। দোকানে গিয়ে বিটুবি (B2B) লেনদেনের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করবেন এমন আশ্বাসে তাঁর কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নেন।
কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই টাকা বিটুবি করেননি বলে অভিযোগ করেন বুলবুল। এরপর একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সরাসরি আদার বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দোকান বন্ধ পাওয়া যায়।
বুলবুল আরও জানান, মোশাহিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরাও ওই দিন থেকে মোশাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানান। বিষয়টি পরিবারকে অবহিত করার পরও পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও তাঁর অবস্থান কিংবা টাকা ফেরতের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি তিনি।
ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বুলবুল বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে তিনি কোনো ধরনের সন্দেহ ছাড়াই মোশাহিদকে চার লাখ টাকা দিয়েছিলেন। একজন সাধারণ চাকরিজীবী হিসেবে তাঁর কাছে এই অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তিনি দ্রুত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় পুলিশের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখের কাছে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি রঙ্গারচর ইউনিয়নের আদার বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর কাছে মোশাহিদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছেন বুলবুল।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মো. মোশাহিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাঁর পাওনা চার লাখ টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: