সারাদেশে অনুষ্ঠিত হলো আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা
শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা অন্বেষণ, মেধার বিকাশ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি (আইইএস)-এর উদ্যোগে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুল ও মাদরাসার তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সার্বিক প্রস্তুতি, তদারকি ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জাতীয় পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি, অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক, অঞ্চল সমন্বয়কারী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, কেন্দ্রসচিব, কক্ষ পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় দেশব্যাপী পরীক্ষার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।
পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে ফেনীর শাহীন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্যারেন্টিং স্পেশালিস্ট ড. আহসান হাবীব ইমরোজ। কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সোসাইটির কার্যকরী কমিটির সদস্য ড. শফিকুল আলম হেলাল। এ ছাড়া সোসাইটির কার্যকরী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ একরামুল হক ভূঁইয়া এবং সহকারী পরিচালক মহিব্বুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন কেন্দ্রের পরীক্ষার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
এ আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির পরিচালক ড. আহসান হাবীব ইমরোজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি, পড়াশোনায় উৎসাহ প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণা জোগানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম হিসেবে এ বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ পাক এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখতে সক্ষম হয়ে উঠুক।’
পরীক্ষা-পরবর্তী সময়ে উত্তরপত্র সংগ্রহ, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুত এবং নীতিমালা অনুযায়ী বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পুরো ফলাফল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এমদাদুল হক এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি, অঞ্চল ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক, কেন্দ্রসচিব, কক্ষ পরিদর্শক, পরীক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা এ আয়োজনকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি আশা প্রকাশ করে, এ আয়োজনের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: