কোরবানির ঈদে ঘুরে দাড়ানোর আশা
গোয়াইনঘাটে পর্যটকে খরা: চরম লোকসানে ব্যবসায়ীরা
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র পর্যটক খরা দেখা দিয়েছে; পাহাড়, নদী, ঝরনা আর পাথরের মেলবন্ধনে বছরজুড়েই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকা জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলের মতো জনপ্রিয় স্পটগুলো এখন অনেকটা নীরব ও নিস্তব্ধ হয়ে আছে। সাধারণত বৃষ্টি শুরু হলে গোয়াইনঘাটের পাথুরে নদীর কোলঘেঁষা এলাকাগুলোতে প্রকৃতির চোখজুড়ানো পসরা সাজে এবং পর্যটকদের ঢল নামে, অথচ এবার প্রত্যাশিত পর্যটক না আসায় হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, পর্যটকবাহী নৌকা, স্থানীয় পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ চরম লোকসান ও হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন। পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সংকট এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলায় মানুষের ভ্রমণ অনেকটাই কমে গেছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জাফলং, বিছনাকান্দি ও সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুলের পর্যটনশিল্পে। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতে গোয়াইনঘাটের পাহাড়, ঝরনা ও নদীগুলো নতুন রূপ ধারণ করায় এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি ঘিরে দীর্ঘদিনের এই মন্দা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে এখানকার প্রায় ৮৫ শতাংশ আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে, যা পর্যটন ব্যবসায়ীদের মনে বড় ধরনের স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. হোসেন মিয়া জানান, গত ঈদের পর থেকেই জাফলং প্রায় পর্যটকশূন্য থাকায় ব্যবসায়ীরা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন, তবে এবারের ঈদে বিপুল পর্যটক আসার সম্ভাবনা থাকায় দোকানিরা নতুন পণ্য দিয়ে দোকান সাজিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জাফলং বিজিবি ক্যাম্প পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আহ্বায়ক ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের পর্যটক খরায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা এক প্রকার নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের ঈদ মৌসুমে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢলে মুখরিত হবে গোয়াইনঘাট এবং ব্যবসায়ীরা তাদের পূর্বের সব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: