দাবি আদায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ওসমানীতে রোগীদের দুর্ভোগ
এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ভাতা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন শিক্ষানবিস চিকিৎসকেরা। আজ রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।
আজ রোববার (৭ জুন) সকালে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আকস্মিক এই কর্মবিরতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। এ ছাড়া হাসপাতালের হামের বিশেষ ইউনিটের রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত চিকিৎসকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসলেও কোনো সমাধান ছাড়াই তা শেষ হয়।
আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা জানান, এই কর্মসূচি শুধু সিলেটে নয়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একযোগে দেশব্যাপী চলছে। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করা।
তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে আবেদনের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা। এ ছাড়া বিএমডিসি-২০২৩ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিসিপিএস ও বিএমইউর পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হওয়ার পরও চিকিৎসকেরা আজ বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। দাবি না মানা পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।’
হাসপাতালের উপপরিচালক চিকিৎসক কে এম হুমায়ুন কবির প্রথম সিলেটকে বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও আমাদের স্থায়ী চিকিৎসকেরা তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। জরুরি বিভাগ ও বিশেষ ইউনিটে ইন্টার্নদের একটি অংশ দায়িত্ব পালন করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসেছিলাম। সরকার ইতিমধ্যে তাদের অনেক দাবি মেনে নিয়েছে, কিছু দাবি প্রক্রিয়াধীন। তারা কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি দ্রুতই সংকটের সমাধান হবে।’
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: