হবিগঞ্জে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের দায়ে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

ট্রাক্টর ও বালু জব্দ, নিলামে বিক্রির নির্দেশ

হবিগঞ্জে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের দায়ে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাহুবল

০৭/০৬/২০২৬ ১৪:৩৩:০১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি ইজারা বহির্ভূত নদী ও ছড়া থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মূল্যবান সিলিকা বালু উত্তোলনের দায়ে এক ব্যক্তিকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত; গতকাল শনিবার দিনগত গভীর রাতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চলিতাতলা এলাকায় এই ঝটিকা ও বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি বালু চুরির অপরাধে বিপুল অঙ্কের এই মোটা অর্থদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম মো. সেলিম মিয়া (৪০), তিনি উপজেলার পূর্ব রসুলপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও বালু পাচারকারী চক্রের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। বাহুবল উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চলিতাতলা এলাকায় অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচারের মূল স্পটে আকস্মিক এই বিশেষ অভিযানের নেতৃত্ব দেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল রায়। এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু চোর সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অবৈধভাবে উত্তোলিত সিলিকা বালু বোঝাই করে পাচারের সময় একটি বড় ট্রাক্টরসহ চালক সেলিম মিয়াকে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় হাতেনাতে আটক করা হয়; পরবর্তীতে গভীর রাতেই ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় আটককৃত সেলিম মিয়াকে নগদ আড়াই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে কঠোর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয় এবং বালুভর্তি ট্রাক্টরটি জব্দ করে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়।

অভিযান শেষে বাহুবল উপজেলার পরিবেশ ও খনিজ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় গণমাধ্যমের সামনে জানান, “উপজেলার হরিতলা ছড়ার মূল্যবান সিলিকা বালুর মহালটি মূলত চলতি বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে ইজারা দেওয়া হয়নি; তবে একটি অসাধু চোরাকারবারি চক্র প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এড়িয়ে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।” ইউএনও উজ্জ্বলের স্পষ্ট ভাষ্য, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর ও সাঁড়াশি অভিযান কোনো ধরনের আপস ছাড়াই নিয়মিত চলমান থাকবে এবং গতকাল রাতে জব্দ করা বিশাল পরিমাণ সিলিকা বালু দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত সরকারি নিলামের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হবে; সেই সাথে হরিতলা ছড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালু ও মাটি উত্তোলন চিরতরে ঠেকাতে প্রশাসনের গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল কোর্টের পরিধি আরও বহুগুণ জোরদার করা হবে বলেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: