পানির নিচে বোরো ফসল
কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ওসমানীনগর: বিদ্যুৎহীন জনপদ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় চলমান কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে সোনালি বোরো ধান ঘরে তোলার মুহূর্তে ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হাহাকার নেমে এসেছে।
উপজেলা বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং অন্তত ১০০ স্থানে সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বজ্রপাতে ১৫টি ট্রান্সফরমার ও প্রায় ১০০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলার বিশাল এক এলাকা গত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন। কাশিকাপন উপকেন্দ্রের প্রধান লাইনগুলোতে গাছ উপড়ে পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। কাশিকাপন অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মো. নাঈমুল হাসান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের ৯৫ শতাংশ মেরামত শেষ হয়েছে এবং দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
কৃষি খাতেও আঘাত হেনেছে এই দুর্যোগ। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাবে ৩০ হেক্টর জমি আংশিক এবং ৮ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে উমরপুর ইউনিয়নসহ উপদ্রুত এলাকার কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ। উপজেলা কৃষি অফিসার উম্মে তামিমা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
এদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও অকাল বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া প্রভাবশালী মহলের ড্রেন দখলের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসায় তাজপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: