বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জে দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ বিভ্রাট

কালবৈশাখীর তাণ্ডব

বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জে দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ বিভ্রাট

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৯/০৪/২০২৬ ১০:০০:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টানা কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেটের বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও খুঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পল্লী বিদ্যুতের সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিয়ানীবাজারের অনেক এলাকায় টানা ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিয়ানীবাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা ঝড়ে উপজেলার প্রায় ৬২ হাজার গ্রাহক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেক গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ নেই। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানায়, ঝড়ে বারবার সঞ্চালন লাইন ও খুঁটি উপড়ে পড়ায় মেরামত কাজ শেষ করতে না করতেই ফের ঝড়ে তা লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে। আমিনুল ইসলাম সেবুল নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থী জানায়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের এজিএম মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলায় ২৫ থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা দিন-রাত কাজ করেও ঝড়ের তাণ্ডবের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে তিলপাড়া ইউনিয়নসহ হাওর এলাকার লাইনগুলো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার চিত্রও প্রায় একই। সেখানে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে। এর ওপর কালবৈশাখীর আঘাতে লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কলকারখানা, ব্যাংক, বীমা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। গভীর রাত ও ভোরে লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ উৎপাদন ব্যবস্থাও।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: