হরিপুর সীমান্তে চোরাচালান তথ্য ফাঁস: আলোচনায় বিএনপি নেতা ডালিম
Led Bottom Ad

হরিপুর সীমান্তে চোরাচালান তথ্য ফাঁস: আলোচনায় বিএনপি নেতা ডালিম

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৯/০৪/২০২৬ ১৬:১৯:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মাজহারুল ইসলাম ডালিম। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং সিলেট জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের অন্যতম একজন। দীর্ঘদিন ছিলেন রাজনীতির বাহিরে। প্রবাসে সময় কাটানোর সুবাধে সরাসরি অংশ ছিলো না রাজনীতিতে। জনপ্রতিনিধি থাকাকালীন বেশ দাপট থাকলেও বিগত সময়ে আওয়ামী দাপটে ঠিকতে না পেড়ে পাড়ি জমান বিদেশে। কিন্তু ২০২৪ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি ফিরে আসেন দেশে। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে দলীয় অনুসারীদের মধ্যেও বেশ উচ্ছ্বাসা ছিল। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যা গরিষ্টতায় সরকার গঠন করার পর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ডালিম আরও দাপুটে হয়ে উঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট-তামাবিল রোডে চোরাচালান রাজ্যের অন্যতম হোতা হিসেবেও তাঁর নাম উঠে আসে আলোচনায়। বিষয়টি আরও পরিস্কার হয়ে উঠে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি কল রেকর্ডে। কল রেকর্ডের পর সারা সিলেটে শুরু হয় তোলপাড়।  


স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশে ফিরে আসেন ডালিম। তার প্রত্যাবর্তনে দলীয় অনুসারীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি সিলেট-তামাবিল সড়কে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে পড়ে—এমন আলোচনাও তৈরি হয়।


এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে ওঠে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর। ওই রেকর্ডে তাকে চোরাচালান কার্যক্রম নিয়ে অনুসারীদের উদ্দেশে কৌশলী নির্দেশনা দিতে শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ফাঁস হওয়া অডিওকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।


স্থানীয়দের ভাষ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বাস্তব চিত্র তার বিপরীত বলেই দাবি তাদের। একাধিক সূত্রের অভিযোগ, হরিপুর থেকে শহরের উপকণ্ঠ মেজরটিলা পর্যন্ত পুরো রুট এখন একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডে শোনা যায়—"সিন্ডিকেট করো, একবারে ছোট জিনিসও বাদ দিও না। মুখ বন্ধ করে খাও। টাউনের কাউকে ঢুকতে দিও না, তোমরা তোমরা খাও।"


এই বক্তব্য ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগতদের বাদ দিয়ে নিজস্ব অনুসারীদের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে একটি নিয়ন্ত্রিত চোরাচালান জোনে পরিণত করা হয়েছে।


স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, তামাবিল সড়ক দিয়ে আসা ভারতীয় চিনির বস্তা, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ ‘লাইন পাস’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হয়। এর বিনিময়ে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।


আরও অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত থেকে আসা ট্রাক ও ডিআই যানবাহনগুলো হরিপুর থেকে মেজরটিলা পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে সংশ্লিষ্ট বলয়ের লোকজন।


এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মাজহারুল ইসলাম ডালিমের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এসএমএস পাঠালেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঙ্গেও এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


ফাঁস হওয়া অডিও এবং এসব অভিযোগকে ঘিরে এখন সিলেটজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চাপা উত্তেজনা ও নানা প্রশ্ন।




মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad