যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ গ্যাসের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে গ্যাসের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৪ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের এপ্রিলে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রারম্ভে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছিল। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি। গত বছর এই সময়ে দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ১৫ ডলার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, অঙ্গরাজ্য ভেদে দামের ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৩ দশমিক ৭২ ডলার হলেও আমদানিনির্ভর ক্যালিফোর্নিয়ায় তা ৫ দশমিক ৯৬ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারও বর্তমানে বেশ উত্তাল। মঙ্গলবার সকাল নাগাদ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে মার্কিন মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তজনা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তেলের এই উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর জন্য তা ব্যাপক মুনাফার সুযোগ করে দিয়েছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে (২ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড) পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির এই দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: