চলন্ত ট্রেনের নিচে শিশুকে বাঁচাতে বাবার ঝাঁপ
Led Bottom Ad

চলন্ত ট্রেনের নিচে শিশুকে বাঁচাতে বাবার ঝাঁপ

প্রথম ডেস্ক

২৯/০৪/২০২৬ ১০:১০:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে এক রুদ্ধশ্বাস ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন শত শত যাত্রী। চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়ে যাওয়া দুই বছরের সন্তানকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন এক বাবা। ট্রেনের আটটি বগি তাঁদের ওপর দিয়ে চলে গেলেও অলৌকিকভাবে বাবা ও সন্তান দুজনেই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফিরেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি গ্রামের এক দম্পতি তাঁদের দুই বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য ভৈরব স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছায়। স্টেশনে যাত্রীদের অস্বাভাবিক ভিড় থাকায় কামরায় ওঠার সময় ভিড়ের চাপে মা ও শিশু সন্তান দুজনই প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের সরু ফাঁকা জায়গায় পড়ে যান। মা দ্রুত ওপরে উঠে আসতে পারলেও শিশুটি নিচে আটকা পড়ে থাকে। ঠিক ওই মুহূর্তেই ট্রেনটি ছেড়ে দিতে শুরু করলে বাবা কালবিলম্ব না করে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

নিচে নেমেই ওই ব্যক্তি শিশুটিকে বুকের গভীরে জাপটে ধরে প্ল্যাটফর্মের দেয়াল ঘেঁষে একদম স্থির হয়ে শুয়ে পড়েন। ট্রেনের একের পর এক বগি সশব্দে তাঁদের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ার সময় প্ল্যাটফর্মে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন। ট্রেনটি পুরোপুরি স্টেশন অতিক্রম করার পর দেখা যায়, বাবা ও সন্তান দুজনেই রেললাইনের ওপর অক্ষত অবস্থায় শুয়ে আছেন। উপস্থিত জনতা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে ওপরে তুলে আনেন।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি আল্লাহর অসীম রহমত ছাড়া আর কিছুই নয়। বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও ওই দম্পতি প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পুলিশ তাঁদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তাঁরা আর ঢাকা না গিয়ে কটিয়াদীর গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাবার অসীম সাহসিকতা ও মমত্ববোধের প্রশংসা করছেন সাধারণ মানুষ।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad