ছাতকে শিক্ষক ও জনবল সংকটে ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা-এ দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও জনবল সংকটে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক ও সহায়ক কর্মচারীর অভাবে পাঠদান, প্রশাসনিক কাজ এবং শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩২ হাজার ৯২২ জন। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৫৩টি শিক্ষক পদ শূন্য। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক ৫৭টি এবং সহকারী শিক্ষক ৯৬টি পদ খালি রয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরী পদ শূন্য রয়েছে ৯৩টি। শুধু বিদ্যালয় নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। অনুমোদিত ৭টি পদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৫টি পদ শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক ও দপ্তরীসহ মোট ২৫৫টি পদ খালি রয়েছে উপজেলায়।
সূত্র জানায়, চলতি বছরে প্রায় ৯০ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা যোগদান করলেও ৬৩টি শিক্ষক পদ শূন্য থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য পদে আরও ১০২টি শূন্যপদ রয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনবল সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় অন্য বিদ্যালয় থেকে এনে কোনোভাবে পাঠদান চালানো হচ্ছে। আবার অনেক শিক্ষক শহরে বসবাস করায় সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রাথমিক স্তর পেরিয়ে মাধ্যমিকে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি পড়ায় দুর্বল, এমনকি সহজ গণিতেও সমস্যা রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়েও।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজাহান আহমদ শিক্ষক ও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যোগ দিলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: